এক প্রান্তে উইকেটের মিছিল, অন্য প্রান্তে অবিচল এক ব্যাটার। সতীর্থরা যখন আসা-যাওয়ার খেলায় ব্যস্ত, তখন ব্যাট হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের শাসন করছেন তাওহিদ হৃদয়। প্রথমে সেঞ্চুরি, এরপর দেড়শ পেরিয়ে এবার ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন। সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন আজ যেন হয়ে উঠেছে শুধুই হৃদয়ের।
মিরপুরে আগের টেস্টে দুই ইনিংসে দৃষ্টিকটু শটে আউট হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই তরুণ। সেই হৃদয়ই এবার সিলেটে ব্যাট হাতে লিখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই পেয়ে গেলেন প্রথম শতকের স্বাদ। তাতেই থেমে থাকেননি, ইনিংসকে নিয়ে গেছেন দেড়শ পেরিয়ে আরও অনেক দূর।
শামার জোসেফের করা ৮৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মেরে দেড়শ পূর্ণ করেন হৃদয়। তখন তার নামের পাশে ১৪টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। প্রতিবেদন লেখার সময় দ্বিতীয় সেশন শেষে ১৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
অথচ দিনের একটা পর্যায়ে বাংলাদেশের ইনিংসের চিত্র ছিল ভীষণ হতাশাজনক। সাদমান ইসলামের চোটে একজন ব্যাটার কম নিয়ে খেলতে নামা স্বাগতিকেরা ১৮৪ রানে হারায় সপ্তম উইকেট। তখন মনে হচ্ছিল, দুইশ রানও বুঝি অধরা থেকে যাবে। কিন্তু হৃদয়ের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম ক্রিজে দাঁড়াতেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
অষ্টম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি তখন ৯০ রানে পৌঁছেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে রানের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরাচ্ছেন তারা। হৃদয়ের এই লড়াই অবশ্য শুরু হয়েছিল আরও আগে। ৫১ রানে তিন উইকেট হারানোর পর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ৭৩ রান। পরে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৪১ রানের জুটি।
একসময় দলের প্রায় সব ভরসা হারিয়ে গেলেও হৃদয় হারাননি নিজের ছন্দ। ফিফটি করতে যেখানে খেলতে হয়েছিল ১০৯ বল, সেখানে পরের ৫০ রান এসেছে মাত্র ৬২ বলে। ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা এই ইনিংসে রয়েছে ধৈর্য, দক্ষতা ও বড় কিছু করার তাড়না।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে লেজের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে ১৯০ রান করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাট রেনশ। সিলেটে হৃদয়ের ১৯০ রানের অপরাজিত ইনিংস সেই লড়াকু ব্যাটিংয়ের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।



