মিরপুরে সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের টেস্টে দুই ইনিংসেই বাজে শটে আউট হয়ে বাংলাদেশের হারের অন্যতম দায় নিতে হয়েছিল তাকে। সেই ব্যর্থতার জবাব দিতে খুব বেশি সময় নিলেন না এই তরুণ ব্যাটার। সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে দেখালেন অসাধারণ দৃঢ়তা। তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, এরপর সেই ইনিংসকে নিয়ে গেলেন দেড়শ রানের মাইলফলকে।
আজ তৃতীয় দিনের সকালে হৃদয়ের সেঞ্চুরির মুহূর্তটিও ছিল নাটকীয়তায় ভরা। জেডেন সিলসের বলে ফাইন লেগে ঠেলে দিয়ে রানের জন্য ছুটেছিলেন তিনি। সতীর্থরা উদযাপন শুরু করলেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে জানা গেল, সেটি ছিল লেগ বাই। তবে অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি। পরের ওভারের প্রথম বলেই সিঙ্গল নিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান হৃদয়। হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে চেনা ভঙ্গিতে উদযাপন করেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলের কঠিন পরিস্থিতিতে এই ইনিংস ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মুমিনুল হক ছিটকে যাওয়ায় একাদশে সুযোগ পাওয়া হৃদয় আগের দিন দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিলেন ২৯ রানে অপরাজিত থেকে। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে একে একে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে বিদায় নেন হাসান মাহমুদও। সতীর্থদের এমন আসা-যাওয়ার মধ্যেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন হৃদয়।
আগের দিন ৮০ বলে ২৯ রান করা হৃদয় শনিবার শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। বাজে বলের শাস্তি দিয়েছেন, আবার ভালো বলকেও দক্ষতায় সীমানাছাড়া করেছেন। ১০৯ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। এরপর ব্যাটিংয়ের গতি বাড়িয়ে পরের ৫০ রান করেন মাত্র ৬২ বলে।
লাঞ্চের বিরতিতে তার সংগ্রহ ছিল ১৭১ বলে অপরাজিত ১০০ রান। ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও একটি ছক্কা। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই আসে তার অর্ধেক রান।
এরপর সেঞ্চুরিকে দেড়শতে রূপ দিয়ে নিজের সামর্থ্যের আরও বড় প্রমাণ দেন হৃদয়। দলের অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতার বিপরীতে তার ব্যাটিং হয়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রধান ভরসা। বাংলাদেশের রান এখন ৭ উইকেটে ২৭৪। এখনো উইন্ডিজের ১ম ইনিংস থেকে ৮২ রান পিছিয়ে টাইগাররা।



