সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনটি নিজের করে নিলেন তাওহীদ হৃদয়। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশকে একক নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রান ছাড়িয়ে ৩০ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
শনিবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৩৮৬ রানে। ১১১.৫ ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেট হারায় দলটি। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে দিন শেষে ২৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
বাংলাদেশের ইনিংসের মূল কারিগর তাওহীদ হৃদয়। ৩৫৯ বল মোকাবিলা করে ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দারুণ ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেল। দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা মিলে করেছেন ১৪৪ রান। অথচ তাঁদের কেউই ব্যক্তিগতভাবে ৩৫ রানের ঘরও পেরোতে পারেননি।
দিনের শুরুতে তিন উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। হৃদয়ের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দুজনের ৭৩ রানের জুটি আশার সঞ্চার করলেও ৩৪ রানে মুশফিকের বিদায়ে সেই জুটি ভেঙে যায়। জোমেল ওয়ারিকানের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
এরপর লিটন দাস ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। দুটি বাউন্ডারি হাঁকালেও ওয়ারিকানের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৮ রানে ফিরতে হয় তাকে। মেহেদী হাসান মিরাজও হৃদয়ের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন। রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর সংগ্রহ ১৬ রান।
হাসান মাহমুদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১৭২ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে বড় লিড নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল সফরকারীরা। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়।
তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। ৫৬ বলে ২২ রান করে তাইজুল বিদায় নিলেও থামেননি হৃদয়। এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেটে আরও ৮৫ রান যোগ করেন এই ব্যাটার।
এই জুটির মধ্যেই নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন হৃদয়। ৩০৪ বলে দুইশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাসকিন ১২ রান করে আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি সাদমান ইসলাম। ফলে ৯ উইকেট হারিয়েই ইনিংস শেষ হয় স্বাগতিকদের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ১০৪ রান খরচায় চারটি উইকেট নেন তিনি। জেইডেন সিলস শিকার করেন দুটি উইকেট।
৩০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্র্যান্ডন কিং ১৩ বলে ৫ এবং জশুয়া দা সিলভা ১১ বলে ২ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। দিনের শেষ দিকে বাংলাদেশ দুটি রিভিউ হারালেও কোনো উইকেটের দেখা পায়নি।
এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নির্ভর করছে চতুর্থ দিনের ওপর। উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত চাপে ফেলা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ২৩ রানে পিছিয়ে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য হবে বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।



