আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিতীয় আসর সামনে রেখে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এবারের আসরে অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখের বেশি কিশোর-কিশোরী। নতুন দুটি ইভেন্ট যুক্ত হওয়ায় মোট ১০টি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বিকেলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ৫০৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আয়োজন সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।
সম্প্রতি সফলভাবে শেষ হয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসর। সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করেন আমিনুল হক। তাঁর মতে, প্রচলিত ধারায় অনেক টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। নতুন কুঁড়ির ক্ষেত্রে সেই চিত্র বদলাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় গতানুগতিক ধারায় কোন টুর্নামেন্ট শেষ হলো, এরপর আর সেই খেলোয়াড়দের খুঁজে পাওয়া যায়না। এটাই ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তব চিত্র ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এখানে আমরা একটু ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি এবং এটাকে স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছি। প্রথম আসরের যে ৩১০ জন ক্রীড়াবিদ পেয়েছি, তাদেরকে নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের একটি ট্রেনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪০ দিনের এই ট্রেনিং সেশনের মধ্য থেকে যারা বিশেষ প্রতিভাবান তাদেরকে নির্বাচিত করে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি তারা যাতে পড়াশুনাও চালিয়ে যেতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুধুমাত্র ঢাকার বিকেএসপি না অন্যান্য যে বিকেএসপিগুলো আছে, সেগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য ইতিমধ্যে কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের ভেতরে অন্যান্য বিকেএসপিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কাজ চলমান রয়েছে।’
দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪ হাজার ৫৯৯টি দল গঠন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ৩ হাজার কিশোর-কিশোরী। এর মধ্যে প্রায় ৯ লাখের কিছু বেশি কিশোর এবং প্রায় ৬ লাখ কিশোরী রয়েছে। নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কিশোরদের পাশাপাশি কিশোরীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকে দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামী ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের যে অংশগ্রহণ, সেটিতে আরো অনেক বেশি অনেকেই উৎসাহিত হবেন, অনেক পরিবার তারা উৎসাহিত হবেন। তাদের হাত ধরে যে আমার বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে, সেই আশার আলো সেই সকল পরিবার দেখতেই পারে।
প্রথম আসরের তুলনায় দ্বিতীয় আসরে দুটি নতুন ইভেন্ট যুক্ত হয়েছে। টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত হওয়ায় এবার মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগের আটটি ইভেন্ট হলো অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট, মার্শাল আর্ট, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডি।
প্রতিযোগিতার সূচি তৈরির ক্ষেত্রে রমজান, ঈদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আগামী বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুতে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।



