ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন র্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি করা এবং বিশ্বকাপের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলা। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে প্রস্তুতির নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই সিরিজ দিয়েই পূর্ণ মেয়াদে অধিনায়কত্ব শুরু হচ্ছে লিটন দাসের।
২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে টানা পাঁচটি সিরিজে হেরে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জিতে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে দলটি। র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব মেলানোর সেই চাপ কাটিয়ে এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও ওপরে ওঠা।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পরিকল্পনা আগেই শুরু হয়েছে, ‘আমরা খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। যেহেতু তা শেষ পর্যন্ত হয়ওনি, তাই এখন লক্ষ্য র্যাঙ্কিংয়ে যেন ৫–৬ এ থেকে বিশ্বকাপে যেতে পারি।’
বিশ্বকাপ সামনে রেখে অধিনায়কত্বেও পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। টানা চারটি সিরিজ জিতিয়ে দলকে সরাসরি বিশ্বকাপে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে। একসময় বাজে পারফরম্যান্সের কারণে প্রায় এক বছর দলের বাইরে থাকা লিটন গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফেরেন। এরপর মিডল অর্ডারে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
ব্যাটিং অর্ডার আগের তুলনায় স্থিতিশীল হলেও স্পিন বিভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। পেসাররা সুযোগ পেয়ে ভালো করলেও স্পিনারদের পারফরম্যান্স ও বিকল্প নিয়ে চলছে ভাবনা। এ কারণেই ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে বাউন্সের কারণে বাঁহাতি স্পিনারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে-এমন বিবেচনা থেকেই আলিসের বল ঘোরানোর সামর্থ্য যাচাই করতে চায় দল।
মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কমিয়ে দেওয়াই আলিসের কাছে প্রত্যাশা। অন্যদিকে, রিশাদ হোসেনের সাম্প্রতিক ফর্মও ভাবাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। জিম্বাবুয়েতে দুই ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছেন তিনি। ফর্মের কারণে সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। স্পিনারদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা নিয়ে সংশয় না থাকলেও তার সঙ্গে কে খেলবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ত্রিদেশীয় সিরিজে আলিসের একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সামনে প্রস্তুতির আরও সুযোগ থাকছে। আগামী নভেম্বরে বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে দলটি। ভবিষ্যৎ সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের আর কোনো ওয়ানডে নেই। তবে জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ কিংবা পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বকাপের আগে আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ খেলবে বাংলাদেশ।



