বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিশ্বমানের অবকাঠামো গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা বহুবার বলেছেন তামিম ইকবাল। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি। ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স পরিদর্শন করেছেন তামিম, যেখানে আধুনিক ক্রিকেট প্রশিক্ষণ ও খেলোয়াড় উন্নয়নের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেছেন তিনি।
গতকাল এ পরিদর্শনে তামিমের সঙ্গে ছিলেন বিসিবির পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম এবং বিসিবির সহসভাপতি, গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা।
বেঙ্গালুরুর এই সেন্টারকে আদর্শ ধরেই ঢাকায়, বিশেষ করে পূর্বাচলে, একটি আধুনিক সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের তামিমের। বিসিবির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময় থেকেই এটিকে নিজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। পরে অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর সেই পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার উদ্যোগও শুরু করেন।
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এনসিজি) প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করেই এক্সিলেন্স সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। এরই মধ্যে আগের নকশায় কিছু পরিবর্তন এনে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে আগেই জানিয়েছেন তামিম।
শুধু ভবন নির্মাণ নয়, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট অবকাঠামো গড়তে উইকেট ও গ্রাউন্ডের মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। এজন্য বাইরের মাটি এনে উন্নতমানের উইকেট প্রস্তুত এবং আধুনিক গ্রাউন্ড সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সিলেন্স পরিদর্শনের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা আরও বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হলো বলে মনে করা হচ্ছে। বিসিবির আশা, পূর্বাচলে পরিকল্পিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের দক্ষতা উন্নয়ন, পুনর্বাসন, গবেষণা ও উচ্চমানের প্রশিক্ষণের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট উন্নয়নকেন্দ্র গড়ে উঠবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখছে বোর্ড।









Discussion about this post