জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ষষ্ঠ রাউন্ডের প্রথম দিন আজ ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন ঢাকার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তাইবুর রহমান। আসরে প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর তৃতীয় রাউন্ডেও তিন অঙ্কের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার অল্পের জন্য শতক হাতছাড়া হলেও ষষ্ঠ রাউন্ডে আর অপেক্ষা বাড়াননি এই ব্যাটসম্যান। তার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে খুলনার বিপক্ষে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছে ঢাকা বিভাগ। অন্যদিকে বল হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ পেসার সানজিদ মজুমদার।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-খুলনা ম্যাচের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে ঢাকা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষে ৯০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৬৮ রান সংগ্রহ করেছে তারা।
দারুণ শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি ঢাকার টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি ৫৬ ও আনিসুল ইসলাম ৪৫ রান করেন। তিন নম্বরে নেমে ফয়সাল সরকার যোগ করেন ৭০ রান। তবে মার্শাল আইয়ুব ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে ঢাকা।
সেই চাপ সামাল দেন তাইবুর ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ২০৬ বলে ১৪৪ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া তাইবুর দিন শেষ করেছেন ১৫২ বলে ১২৮ রান নিয়ে। তার ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও দুটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে আমিনুল অপরাজিত আছেন ৫৬ রানে।
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের পেসার সানজিদ মজুমদারের বোলিং তোপে ধসে পড়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের ব্যাটিং। তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মাত্র ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় দলটি।
সতেজ ঘাসের উইকেটে শুরু থেকেই স্বস্তিতে ছিলেন না রংপুরের ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার অনিক সরকার সেতুর ২৮ রানই ইনিংসের সর্বোচ্চ। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান শামস নিলয় করেন ২৩ রান। শেষ দিকে নবীন ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবু, আবু হাশিম ও শাহরিয়া আলআমিনের ছোট ছোট অবদানে দেড়শ পেরোয় রংপুর।
চট্টগ্রামের হয়ে ১৩.৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন ২০ বছর বয়সী সানজিদ। আগের দুই রাউন্ডের চার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া এই পেসার এবার পেলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ। ইফরান নেন দুটি উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পেয়েছে চট্টগ্রাম। প্রথম দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৩ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৫৯ রান। সাদ্দাম ৩১ ও সাদিকুর রহমান ২১ রানে অপরাজিত আছেন।
শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩২৯ রান তুলেছে সিলেট। দলের তিন ব্যাটসম্যান পঞ্চাশ পেরোলেও কেউ সেঞ্চুরির দেখা পাননি।
দ্বিতীয় একাদশের টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে সিলেটের প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া মাজহারুল হক অভিষেক ইনিংসেই করেন ৫০ রান। ১১ ইনিংসে ৪৮.৩৬ গড়ে ৫৩২ রান করেছিলেন তিনি। অধিনায়ক জাকির হাসান যোগ করেন ৬৫ রান।
এরপর সিলেটের হয়ে আবারও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান আশরাফুল হাসান। এর আগে আসরে জোড়া সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান এবারও বড় ইনিংসের পথে ছিলেন। কিন্তু দিনের শেষ ওভারে ৮৩ রানে আউট হয়ে যান তিনি।
আশরাফুলকে ফিরিয়ে পরের বলেই নাঈম আহমেদকে শূন্য রানে সাজঘরে পাঠান নিহাদ উজ জামান। ফলে নতুন দিনের শুরুতে হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকবে রাজশাহীর এই বোলারের। সিলেটের হয়ে তোফায়েল করেন ৪২ রান। নাসুম আহমেদ ২৪ রানে অপরাজিত আছেন।
মাহফিজুল ইসলাম রবিনের অনুপস্থিতিতে ষষ্ঠ রাউন্ডে ময়মনসিংহের ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর চেষ্টা করেছেন খালিদ হাসান। সিলেট টেস্টে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এই রাউন্ডে খেলছেন না রবিন। তার জায়গায় দ্বিতীয় একাদশ থেকে সুযোগ পাওয়া রনি চৌহান অবশ্য মাত্র ৬ রান করে ফেরেন।
খালিদের ৭৪ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম দিন শেষে ৮২.৩ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করেছে ময়মনসিংহ। ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি আলআমিন ও মোসাদ্দেক হোসেন। চতুর্থ উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন দুজন। আলআমিন ৫৪ এবং মোসাদ্দেক ৪৭ রান করে আউট হন। ফাহিম ২৫ ও আবু হায়দার ২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
ময়মনসিংহের বিপক্ষে বল হাতে সফল ছিলেন তানভির। ৫৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। রুয়েল শিকার করেন দুটি উইকেট।



