বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থগিত সিরিজ আয়োজন নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও দুই দেশের আলোচনার বিষয়ে তাঁকে অবহিত করেছেন।
দুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার। পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর্যায়েও আলোচনা এগিয়ে চলছে। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, ‘ভারতের হাই কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে, তারাও খুব আশাবাদী। গত বিশ্বকাপ থেকে যে দোটানা তৈরি হয়েছে তা খুব দ্রুতই সমাধান করতে পারব। এখন পর্যন্ত আশাবাদী, বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে আলোচনা হয়েছে এর মাধ্যমে সমাধান করে ফেলতে পারব।’
সিরিজটি নিয়ে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে চাই। আমি আশা করি স্পোর্টসের মাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখব। যে দোটানা তৈরি হয়েছে তা স্মুথলি রান করতে চাই।’
বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ স্থগিত হওয়ার পেছনে গত বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি আগের সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিগত সরকার যে হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হঠাৎ করে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া, একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে আমি মেনে নিতে পারি না। এটা সঠিক হয়নি। এটাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে যে দোটানা তৈরি হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তারাও ভারতীয় হাইকমিশন থেকে শুরু করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছেন।’
দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার অগ্রগতির কথাও জানিয়েছেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বললাম। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন। খুব ইতিবাচকভাবে তিনি বলেছেন, আমরা দ্রুতই ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ, কীভাবে দ্রুত খেলার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি।’
বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সিরিজটি কবে এবং কীভাবে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেও দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আশাবাদ স্পষ্ট।



