সাকিব আল হাসানকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ দল নির্বাচনে সাকিব আল হাসানকে আবারও বিবেচনায় রাখা হবে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার ফিটনেস, খেলার জন্য প্রাপ্যতা এবং নির্দিষ্ট সিরিজে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা সন্তোষজনক হলে তিনি আবারও লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারেন।
বোর্ডসভা শেষে বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে বোর্ডের ভেতরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সর্বসম্মতিক্রমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে খেলা হবে সেখানে সাকিব যদি উপস্থিত থাকতে পারেন এবং ফিট থাকেন, তাহলে নির্বাচকরা তাকে পরবর্তী সিরিজগুলোতে বিবেচনায় নেবেন। পাশাপাশি সাকিবের আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি বা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিসিবি প্রয়োজন অনুযায়ী এনওসি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সাকিব আল হাসানকে নতুন বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আইনি জটিলতা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বিসিবি। বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, এসব বিষয় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের আওতায় পড়লেও একজন খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ড ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্বকাপ ইস্যুর আলোচনার মধ্যেই সাকিব প্রসঙ্গ ওঠার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের আওতায় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা চূড়ান্ত করার সময়ই সাকিবের নাম আলোচনায় আসে। বোর্ডের এক পরিচালক প্রস্তাব দেন যে সাকিব খেলতে আগ্রহী এবং তার সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। বিষয়টি পরে বিসিবি সভাপতির নজরে আনা হয় এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
আসিফ আকবর আরও বলেন, সাকিবের ব্যক্তিগত ও আইনগত বিষয় বোর্ডের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি নয়। সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে, তা তাদের এখতিয়ার। তবে বিসিবির অবস্থান পরিষ্কার—তারা একজন ক্রিকেটার হিসেবেই সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরাতে চায়। নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির সম্ভাব্য তালিকায় তার নাম রাখার প্রস্তাবও সেই ইচ্ছারই প্রতিফলন।
বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তার খেলার আগ্রহ এবং হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে অংশগ্রহণের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। সাকিব ইতিবাচক মনোভাব দেখানোয় বোর্ড এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানান মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান।
পরবর্তী সময়ে বক্তব্যে আসিফ আকবর বলেন, সাকিব দেশে ফিরে অবসর নিতে চান—এমন একটি ব্যক্তিগত ইচ্ছাও তিনি প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, সাকিব শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি অধ্যায়। এমন খেলোয়াড় বারবার পাওয়া যায় না, এবং দেশের মানুষের ভালোবাসার প্রতি সম্মান রেখেই বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আসিফ আকবরের মতে, সরকার যদি আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেটি আলাদা বিষয়। বিসিবি মূলত মাঠের ক্রিকেট এবং খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। তার ভাষায়, সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও সাকিব জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছিলেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেই সম্মান বজায় রেখেই বোর্ড তার ফেরার পথ খোলা রেখেছে।










Discussion about this post