এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আগে আত্মবিশ্বাস আকাশ ছোঁয়া। উইকেট নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ বা অজুহাত তুলতে নারাজ বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। জাপানে যে ধরনের উইকেটই সামনে আসুক, খেলোয়াড়দের তার সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি এবারের আসরে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্যও তিনি খোলাসা করেছেন-স্বর্ণপদক জয়।
জাপানের উইকেট ব্যাটারদের অনুকূলে না থাকলেও তা দলের খারাপ পারফরম্যান্সের যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো ঠিক হবে না বলে মনে করেন সালাউদ্দিন। তার ভাষ্যে, ক্রিকেটারদের মানসিকভাবেই তৈরি থাকতে হয় ভিন্ন ভিন্ন ধরনের উইকেটের সঙ্গে লড়াই করার জন্য।
তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেললে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলতে হয়। তাই প্রতিবার ভালো উইকেট পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। যদি ১২০ রানের উইকেট হয়, তাহলে আমাদের সেভাবেই খেলতে হবে। আর যদি ২০০ রানের উইকেট হয়, তাহলে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেভাবেই খেলতে হবে।’
২০১০ সালে চীনের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেট বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ-যা এখনো পর্যন্ত সব ধরনের ক্রীড়া মিলিয়ে দেশটির একমাত্র স্বর্ণপদক এই আসরে। এবার জাপানের আইচি-নাগোয়ায় সেই কীর্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারলে তা পুরো বাংলাদেশ দলের জন্যই বিশাল এক প্রাপ্তি হবে, এমনটাই বিশ্বাস কোচ সালাউদ্দিনের।
এনিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘২০১০ সালে নারী ক্রিকেট দল রৌপ্য জিতেছিল এবং কাবাডিতে হয়তো এক বা দুটি রৌপ্য আছে। এর বাইরে আমাদের বড় কোনো অর্জন নেই। বাংলাদেশ থেকে এবার বড় একটি দল যাচ্ছে। কিন্তু এমন ইভেন্ট খুব বেশি নেই, যেখানে আমরা আসলে পদক জিততে পারি। এ কারণেই আমরা ক্রিকেটকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি এবং আমরা চাই বাংলাদেশ স্বর্ণপদক জিতুক।’
সালাউদ্দিনের বিশ্বাস, ক্রিকেট থেকে আসা একটি স্বর্ণপদক শুধু দলের নয়, বরং গোটা বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। সে লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে জাপানে যেতে চায় বাংলাদেশ দল।
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়ায় হবে ক্রিকেটের ম্যাচগুলো। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হবে লড়াই। পুরুষ ক্রিকেটে বাংলাদেশের মিশন শুরু ২৮ সেপ্টেম্বর। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশ খেলবে ‘বি’ গ্রুপের সেরা দলের বিপক্ষে।



