টেস্ট সিরিজে হতাশার পর ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। প্রকৃতির বৈরিতায় প্রথম দুই ম্যাচ মাঠে গড়াতে না পারায় তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ ওয়ানডেটিই হয়ে উঠেছিল অলিখিত ফাইনাল। সেই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। পচেফস্ট্রুমে স্বাগতিকদের দেওয়া ১৮৩ রানের লক্ষ্য ৩৩ ওভারেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের জয়ের ভিত অবশ্য তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররা। টসের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের পথে এগোতে দেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। রিশাদ হোসেন ও আল ইসলাম মিলে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপে তৈরি করেন একের পর এক চাপ। রিশাদ ৪৫ রানে নেন ৪ উইকেট, আর আল ইসলামের শিকার ৩৫ রানে ৩ উইকেট। দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের বেশির ভাগই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি।
স্বাগতিকদের হয়ে কেবল মার্ককুইস অ্যাকারমান ও ইমরান মানাক কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পেরেছেন। অ্যাকারমান ৫৪ এবং মানাক ৪৩ রান করেন। তাদের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকার আর কোনো ব্যাটারই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ফলে একসময় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৮২ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
১৮৩ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য খুব বড় না হলেও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের চাপ ছিল আলাদা। সেই চাপ সামলানোর কাজটি শুরুতেই সহজ করে দেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম। দুজনের ব্যাটে আসে ৯২ রানের দারুণ উদ্বোধনী জুটি। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই জুটিই মূলত বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
সাইফ ছিলেন আক্রমণাত্মক। মাত্র ৫৩ বলে ৬১ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে নাঈম খেলেছেন অপেক্ষাকৃত ধীরস্থির ইনিংস। ৭৭ বলে ৬০ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি চার ও একটি ছক্কা। দুই ওপেনারের অর্ধশতকের পর বাংলাদেশের জয় অনেকটাই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
৯২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর বাংলাদেশ আরও চারটি উইকেট হারায়। স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে কাইল সিমন্স সবচেয়ে সফল, ৩টি উইকেট নেন তিনি। তবে লক্ষ্য ছোট হওয়ায় মাঝের দিকে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়নি বাংলাদেশের।
শেষ পর্যন্ত ৩৩ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। হাতে ছিল আরও ১০২ বল। রান তাড়ায় শুধু জয়ই নয়, আধিপত্যও দেখিয়েছে সফরকারীরা।
এই জয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে টেস্ট সিরিজের ফল বিবেচনায় নিলে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ভালো ছিল না; টেস্ট সিরিজে হারতে হয়েছে। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বৃষ্টির কারণে প্রথম দুই ওয়ানডে পরিত্যক্ত হওয়ায় সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য শেষ ম্যাচটিই হয়ে দাঁড়ায় একমাত্র সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল দেখাল, টেস্টে ব্যর্থতার পরও সফর শেষ করার মতো শক্তি ও মানসিকতা তাদের রয়েছে।



