বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি রংপুর রাইডার্স। তবে এবারের আসর আয়োজনের প্রশ্নে অন্যরকম অবস্থান নিয়েছে দলটি। বিপিএলকে আরও টেকসই ও কার্যকর কাঠামোয় দাঁড় করাতে প্রয়োজনে এক বছর বিরতি দেওয়ার পক্ষেই ভোট দিয়েছে রংপুর। তবে বিরতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট পরিকল্পনা চায় তারা। বিশেষ করে পরবর্তী পাঁচ আসরের ক্যালেন্ডার আগেভাগেই নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
শনিবার বিসিবির সঙ্গে বিপিএল নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তারা। বৈঠক শেষে রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক জানান, বিপিএলকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মতে, দীর্ঘ এক দশক ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে পথ চললেও এখনো বিপিএলের জন্য স্থায়ী ও টেকসই কোনো মডেল তৈরি হয়নি।
ইশতিয়াকের ভাষায়, বিসিবি পুরো টুর্নামেন্টকে আরও সুন্দর ও টেকসই মডেলে আয়োজনের জন্য ছোট একটি বিরতি নিয়েছে। বৈঠকে রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে ওঠা ‘সংস্কার’-এর প্রস্তাবটিও তার ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি। দুই পক্ষ মিলে কার্যকর একটি কাঠামো তৈরি করতে পারলে সেটি শেষ পর্যন্ত বিপিএলের জন্যই লাভজনক হবে বলে মনে করেন রংপুরের এই কর্মকর্তা।
তবে শুধু কাঠামো বদলালেই হবে না, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুযোগ দেওয়ার দাবিও তুলেছে রংপুর। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টির ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিপিএলের সময় নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছে তারা। ইশতিয়াক জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি করার সময়সূচি ঠিক রাখতে অন্তত পাঁচ বছরের ক্যালেন্ডার প্রয়োজন।
তার যুক্তি, বিশ্বজুড়ে এখন প্রায় ২০টি টি-টোয়েন্টি লিগ চলছে। এসব প্রতিযোগিতার ভিড়ে বিপিএল খেলোয়াড়দের কাছে তুলনামূলক কম অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাই এক বছরের সূচি নয়, পাঁচ বছরের পরিকল্পনা হাতে থাকলে খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি-দুই পক্ষই আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারবে।
বিপিএলের মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের আর্থিক বাস্তবতাও রংপুরের উদ্বেগের বড় কারণ। টুর্নামেন্টের মান ও বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় স্পন্সরদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ আদায় কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছেন ইশতিয়াক। এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকেও।
দলটির প্রধান নির্বাহীর দাবি, বিপিএল শেষ হওয়ার সাত-আট মাস পরও রংপুরের বেশ কয়েকজন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক পরিশোধ বাকি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে থাকার পরও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াকে তিনি হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন। স্পন্সরদের প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো না পাওয়া এবং বাজার পরিস্থিতির অবনতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এই বাস্তবতায় শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য বিপিএল আয়োজনের চেয়ে সংস্কারের জন্য সময় নেওয়াকেই ভালো মনে করছে রংপুর। ইশতিয়াকের বক্তব্যে উঠে এসেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও। তার মতে, কোনো ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে আংশিক অর্থ দেওয়া বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার চেয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন পিছিয়ে দিয়ে একটি ভালো কাঠামো তৈরি করা বেশি যুক্তিসংগত।
এদিকে বিপিএলের বিরতির সময়ে ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ইশতিয়াক। সেটি নিয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
–



