ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে আজ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৪১.২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ রানের ইনিংস এবং সাইফ হাসানের সঙ্গে তার ৯২ রানের জুটি ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। ফলে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে এখন আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হবে বাংলাদেশকে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জয় পাওয়া। তবেই নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু ব্যাটিংয়ে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বোলারদের অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ২৮ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান চার ব্যাটার। সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় রানের খাতা খুলতে পারেননি। শুরুতেই এমন ধাক্কায় বড় সংগ্রহের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।
তবে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। দুজনের ৯২ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দল।
সাইফের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১২১ রান। সেখান থেকে বাকি ছয় উইকেট হারিয়ে দলটি যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৩৯ রান। শুরুতে ২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর শেষদিকে মাত্র ৩৯ রানের মধ্যে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন পারভেজ। ৯৬ বলে ৭০ রান করে তিনি দলের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তার ইনিংসে ছিল গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কয়েকটি আক্রমণাত্মক শট। মোহাম্মদ নবির বলে কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের সংগ্রহ দেড়শ ছাড়াতে সাহায্য করেন এই ব্যাটার। তবে ৩৯তম ওভারে রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
পারভেজ ও সাইফ ছাড়া বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ বলে ১৫ রান করেন। তানজিদ হাসান করেন ১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২ এবং শরীফুল ইসলাম ৭ রান। আলিস আল ইসলাম, সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয় ও মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন শূন্য রানে। তাসকিন আহমেদ অপরাজিত থাকেন ২ রানে।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল রশিদ খান। ৩১ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। ইয়ামিনের শিকার দুটি উইকেট।
জিম্বাবুয়েকে আগের ম্যাচে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের পথে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে আফগানিস্তান। এক ম্যাচে জয় নিয়ে তাদের নেট রান রেট +৩.১৬০। এক জয় ও এক হারে -০.৫৯০ নেট রান রেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে। আর প্রথম ম্যাচে হারের পর -১.৯৮০ নেট রান রেট নিয়ে তিন দলের তালিকায় তলানিতে ছিল বাংলাদেশ।
ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে তাই শুধু জয় পেলেই চলত না, জিততে হতো বড় ব্যবধানে। প্রথমে ব্যাটিং করে ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় সেই সমীকরণ এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলেই কেবল ৪১ রানের জয়ের ব্যবধান নিশ্চিত করতে পারবে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পর বোলাররা দলকে কতটা লড়াইয়ে ফেরাতে পারেন।



