আগামী ৩ অক্টোবর মাঠে গড়াচ্ছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) আসর। আট দলকে নিয়ে সাত রাউন্ডের এই প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা চলবে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে শুরু থেকেই জাতীয় দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে এনসিএলের সূচির সংঘাত থাকায় ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন এনসিএলে জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চ তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারেন। আন্তর্জাতিক সিরিজের সঙ্গে এনসিএলের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্টে তাদের পাওয়া সম্ভব হবে না। এর সঙ্গে ইনজুরি, বিশ্রাম কিংবা পুনর্বাসনের প্রয়োজন যুক্ত হলে কোনো কোনো ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ আরও কমে যেতে পারে।
৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এনসিএলের প্রথম রাউন্ডে আট দল চারটি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও ছয়টি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি দল সাতটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করাই এই প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি প্রতিযোগিতার দলগুলোর ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মূলত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচিই এনসিএলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিভিন্ন ফরম্যাটে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ফলে জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশকে একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, প্রস্তুতি ও বিশ্রামের মধ্যে থাকতে হবে।
বিশেষ করে টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের জন্য এনসিএলে নিয়মিত খেলা কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি তাদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনাও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের এনসিএলে সীমিত ম্যাচে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে এনসিএল টি-টোয়েন্টির পরিবর্তে ছয় দল নিয়ে শুরু হতে যাওয়া ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাতেও জাতীয় দলের শীর্ষ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এখনো নিশ্চিত নয়। ওই সময় জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা কেমন থাকে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ।
ফলে এবারের ঘরোয়া মৌসুমে জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের চেয়ে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ও উঠতি ক্রিকেটারদের ওপরই বেশি নজর থাকবে। এনসিএল তাদের জন্য নিজেদের পারফরম্যান্স দেখিয়ে নির্বাচকদের নজরে আসার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যেও ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এবার বিসিবির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।



