বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ ও দ্বাদশ আসর ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে আরও দুই কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন ইউনিট (বিসিবিআইইউ)। ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা, দুর্নীতির প্রস্তাবের তথ্য গোপন, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর দুজনকেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুজন হলেন মো. আবদুল কাইয়ুম রাশেদ ও মো. আমিন খান। রাশেদ বিপিএলের দ্বাদশ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক ছিলেন। অন্যদিকে আমিন খান একাদশ আসরে দুর্বার রাজশাহী এবং দ্বাদশ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম অপারেশনস ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিসিবিআইইউর তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড ফর পার্টিসিপ্যান্টসের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপিএলের একাদশ ও দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, দুর্নীতির প্রস্তাব বা সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ না করা, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা সৃষ্টি বা বিলম্ব ঘটানোর বিষয়ে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাশেদের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১ ধারা অনুযায়ী ম্যাচ ফিক্সিং বা ম্যাচের ফলাফল ও গতিপ্রকৃতি অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ২.৪.৪ ধারায় দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য যথাসময়ে দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাকে না জানানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং প্রধান মোবাইল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জমা দিতে অস্বীকৃতির অভিযোগে ২.৪.৫/২.৪.৬ ধারা এবং মোবাইল ডিভাইস গোপন করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২.৪.৭ ধারায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আমিন খানের বিরুদ্ধে ২.১.১ ধারায় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ২.১.৪ ধারায় অন্য অংশগ্রহণকারীদের দুর্নীতিতে প্ররোচিত করা বা সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ২.৪.৬ এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা তথ্য গোপন কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২.৪.৭ ধারায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধি অনুযায়ী, অভিযোগের প্রক্রিয়া চলাকালে দুই অভিযুক্তকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিসিবি। নোটিশ পাওয়ার পর আগামী ১৪ দিনের মধ্যে তাদের নিজ নিজ অভিযোগের জবাব দিতে হবে। বিসিবি জানিয়েছে, শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ আনা হলেও এখনো দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের জবাব এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই বিষয়টি এগোবে। এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বিসিবি।
এ মাসের শুরুতে শাস্তি পেয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের সাবেক পরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ তিনজন।



