প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন রাজশাহীর তরুণ ব্যাটসম্যান নাঈম আহমেদ। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ম্যাচে এসে পেয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ। তবে শতরানেই থামেননি ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ইনিংসটিকে আরও বড় করে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১৭৬ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। তাঁর সামনে এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার হাতছানি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। রাজশাহীতে নাঈমের সেঞ্চুরিতে বরিশালের বিপক্ষে বড় লিড পেয়েছে স্বাগতিকেরা। অন্যদিকে শুভাগত হোম গড়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের অনন্য কীর্তি। রংপুরের অধিনায়ক আকবর আলি টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেও এবারও সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে পারেননি।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের প্রথম ইনিংসে করা ২২৯ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৫ উইকেটে ৪২৪ রান তুলেছে রাজশাহী। তাতে ১৯৫ রানের লিড পেয়েছে দলটি। দিনের শুরুতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও নাঈম আহমেদ ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকেরা।
চতুর্থ উইকেটে নাঈম ও সাব্বির যোগ করেন ১৫২ রান। আগের রাউন্ডে সেঞ্চুরি করা সাব্বির এবার ১১৮ বলে ১৩ চার ও এক ছক্কায় ৮৬ রান করে আউট হন। এরপর এসএম মেহেরব হাসানকে নিয়ে দিনের শেষ ভাগে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন নাঈম। দুজন মিলে যোগ করেছেন ১০৪ রান।
৫৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও ধীরস্থির ব্যাটিং করেন নাঈম। পরের ৫০ রান করতে খেলেন ৯৪ বল। দিন শেষে ২৩৩ বলে ২৫ চারের সাহায্যে ১৭৬ রানে অপরাজিত তিনি। অন্য প্রান্তে মেহেরবের সংগ্রহ ৫৭ রান। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে নাঈমের সামনে থাকবে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সুযোগ।
গত জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ ইনিংসে ৮১ রান করেছিলেন নাঈম। চলতি আসরের প্রথম ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৫ ও ৪৭ রান। পরের ম্যাচে করেন ৬৯। এবার সেই ধারাবাহিকতাকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন তরুণ এই ব্যাটার।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানে অলআউট হয়েছে রংপুর। সিলেটের প্রথম ইনিংসের ১৭৯ রানের জবাবে ২৭ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দিন শেষে ৩৪ রান তুলে কোনো উইকেট হারায়নি সিলেট। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে রংপুরের লিড পেরিয়ে সিলেট এগিয়ে আছে ৭ রানে।
রংপুরের হয়ে মিম মোসাদ্দেক ৫৯ রান করেছেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগে টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেন তিনি। অধিনায়ক আকবর আলিও টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশের ঘর পেরিয়েছেন। এবার ১৬৫ বলে তিন চার ও চার ছক্কায় ৭৪ রান করেন তিনি। আগের দুই রাউন্ডে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৬৪ ও ৭৪। তবে এবারও সেঞ্চুরি অধরা থেকে গেছে।
সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ ২৫ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের শিকার ৩ উইকেট। এই পারফরম্যান্সের পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন নাঈম।
কক্সবাজারে ময়মনসিংহের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৮৭ রান করেছে ঢাকা। দলের হয়ে শুভাগত হোম ও রকিবুল হাসান অষ্টম উইকেটে যোগ করেন ১২৮ রান। রকিবুল ৬১ এবং শুভাগত ৭১ রান করে আউট হন। শুভাগতর ইনিংসে ছিল ৩৯তম ফিফটি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান পূর্ণ করার পাশাপাশি ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের অনন্য ডাবল অর্জন করেছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার।
দিন শেষে ঢাকার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১২০ রান। অধিনায়ক নাঈম শেখ ৯২ বলে ৬৪ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।
সিলেটের একাডেমি মাঠে খুলনা ও চট্টগ্রামের ম্যাচেও ব্যাটারদের লড়াই জমে উঠেছে। খুলনার প্রথম ইনিংসের ২০১ রানের জবাবে চট্টগ্রাম করেছে ২৫০ রান। দলের হয়ে ইরফান শুক্কুর ৫৯, শামীম হোসেন ৫১ এবং শাহাদাত হোসেন ৫০ রান করেন। খুলনার তরুণ অফ স্পিনার শেখ পারভেজ রহমান ৪৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনা দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছে। তাতে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১১২ রান। ওপেনার এনামুল হক ৫৩ রান করে ফিরলেও এক প্রান্ত ধরে রেখেছেন আফিফ হোসেন। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার তৃতীয় দিনে দলের লিড আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবেন।



