মাঠে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে বাংলাদেশের গতিতারকা নাহিদ রানার। পিঠের চোট কাটিয়ে উঠতে এবার উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গেলেন এই তরুণ পেসার। পার্থের কোস্টাল অর্থোপেডিক হাসপাতালের চিকিৎসক পিটার দি আলেসান্দ্রোর পরামর্শ নেবেন তিনি। সেখানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০ দিন পুনর্বাসনও চলবে তার। তবে এই চিকিৎসার পর কত দ্রুত মাঠে ফিরতে পারবেন নাহিদ, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নাহিদের চিকিৎসা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চিকিৎসক অনলাইনে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সরাসরি মূল্যায়নের জন্য তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। বিসিবির খরচেই হয়েছে এই সফর। চিকিৎসকের পাশাপাশি স্থানীয় একজন ট্রেনারও তার পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।
জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া চোটের কারণে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসর ও সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন নাহিদ। তার অনুপস্থিতি অনুভূত হয়েছে এশিয়ান গেমস ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজেও খেলা হচ্ছে না এই গতিময় পেসারের। জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফরেও যেতে পারেননি তিনি। ফলে তার মাঠে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
নাহিদের চোটের অবস্থা জানতে গত ১১ অক্টোবর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। সেই পরীক্ষার রিপোর্টে পিঠের নিচের অংশ ও পেলভিক অঞ্চলে দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে তার বোলিংয়েও। পর্যাপ্ত শক্তি প্রয়োগ করতে না পারার পাশাপাশি বোলিংয়ের সময় ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে পুরোপুরি সুস্থ না হয়ে মাঠে ফিরলে ঝুঁকি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি হোম ম্যাচকে সামনে রেখে নাহিদকে ফেরানোর চেষ্টা করছে বিসিবি। তবে বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ওই সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসক পিটার দি আলেসান্দ্রোর পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পরামর্শের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তার গতি ও বাউন্স প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার সামর্থ্য রয়েছে। কিন্তু চোটের কারণে ধারাবাহিকভাবে মাঠের বাইরে থাকায় আপাতত সেই সামর্থ্য কাজে লাগানোর সুযোগ মিলছে না।



