ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ার এখনো শেষ হয়নি। জাতীয় দলের টেস্ট জার্সিতে তিনি এখনও অন্যতম নির্ভরতার নাম। তবে সময়ের হিসাব বলছে, ৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অবসরের দিনও খুব বেশি দূরে নয়। আর সেই দিনটির জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠের ভেতরের মুশফিককে হারানোর আগে মাঠের বাইরের মুশফিককে ধরে রাখতে চায় দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিসিবির পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর মুশফিক আগ্রহী হলে তাকে কোচিং কাঠামোয় যুক্ত করা হবে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অর্জিত অভিজ্ঞতা, ক্রিকেট-জ্ঞান এবং আধুনিক ক্রিকেট সম্পর্কে তার ধারণা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় বোর্ড।
বিসিবির সহসভাপতি ফাহিম সিনহা মনে করেন, দেশের হয়ে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো বোর্ডের দায়িত্ব। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক- যারা আমাদের দেশের হয়ে এত দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছে, তাদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব।’
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ইতিমধ্যেই সেই পথ ধরেছেন। এখনও ঘরোয়া ক্রিকেট খেললেও যুব দল ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন তিনি। একই মডেলে ভবিষ্যতে মুশফিককেও যুক্ত করতে চায় বিসিবি।
তবে বোর্ডের এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে মুশফিকের ব্যক্তিগত আগ্রহের ওপর। ফাহিম সিনহা জানিয়েছেন, কোচিং কিংবা ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দায়িত্বে কাজ করতে চাইলে মুশফিকের জন্য দরজা খোলা থাকবে।
তার ভাষায়, ‘অবশ্যই, যদি মুশফিক কোচিংয়ে আগ্রহী হন কিংবা ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করতে চান, তাহলে আমরা অবশ্যই তাকে যুক্ত করতে চাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত বছরের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক ক্রিকেটকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ- এসব আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক মূল্যবান। তাকে যদি আমরা বিসিবির সঙ্গে যুক্ত করতে না পারি, সেটি আমাদের ব্যর্থতা হবে।’
শুধু সাবেক ক্রিকেটারদের কাজে লাগানোই নয়, দেশের কোচিং কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কোচদের কার্যক্রম মূল্যায়নে তিন সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিতে থাকছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, মিজানুর রহমান বাবুল ও সোহেল ইসলাম।
ফাহিম জানান, নতুন করে কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) চালুর মাধ্যমে কোচদের কাজ নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। সিনিয়র কোচরা জেলা ও বিভাগীয় কোচদের তদারকি করবেন। লক্ষ্য, বিসিবির অধীনে থাকা সব কোচকে একটি অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ের কোচদের আর্থিক সুবিধাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। ফাহিমের ভাষ্য, নতুন বেতন কাঠামোয় জেলা কোচদের পারিশ্রমিক বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনটি গ্রেড নির্ধারণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী বেতন পাবেন কোচরা।










Discussion about this post