‘অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করতে এসেছি’-এমন একটি রহস্যময় ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে নতুন করে আলোচনায় ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি ও ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন। তবে তার এই মন্তব্যের লক্ষ্য কে বা কোন ঘটনা, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
আজ সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মিঠুন লেখেন, ‘অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করতে এসেছি- ভাবছিলাম মানুষ চোখ খুলবে, পরে বুঝলাম… এখানে চশমার অভাব নেই, অভাব শুধু চোখ খুলে সত্যিটা দেখার ইচ্ছের।’
কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা নির্দিষ্ট ঘটনার নাম উল্লেখ না করায় পোস্টটির অন্তর্নিহিত বার্তা নিশ্চিতভাবে বোঝার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোয়াবের ভূমিকা এবং সংগঠনটির সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সম্পর্ক নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে মিঠুনের এমন মন্তব্য নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে কোয়াবের সভাপতি নির্বাচিত হন মিঠুন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রিকেটারদের বিভিন্ন দাবি ও স্বার্থের বিষয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। একই সময়ে কোয়াবকে বিসিবির ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে দেখার সমালোচনাও সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য এমন ধারণার জবাব দিয়েছেন মিঠুন। কোয়াবকে বিসিবির ‘ছায়া’ হিসেবে দেখার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শত্রুতা আছে, এমন কারও কি কোয়াবের সভাপতি হতে হবে!’ তার বক্তব্য, কোয়াবের মূল উদ্দেশ্য ক্রিকেটারদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করা।
এদিকে কোয়াবের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল বিপিএল না হওয়া। টুর্নামেন্টটি না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে বিসিবির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয় সংগঠনটি। এর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে।
নতুন কাঠামোয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওয়ানডেতে ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
কোয়াবের সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মাঠের ক্রিকেটেও সক্রিয় রয়েছেন মিঠুন। ২০২৬-২৭ মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগে তিনি খুলনা বিভাগের অধিনায়কত্ব করবেন। আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া এনসিএলের আগে আট বিভাগের অধিনায়কের হাতে প্রথমবারের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য বিশেষ ব্যাগি ক্যাপ তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই ক্যাপ পাওয়া অধিনায়কদের একজনও মিঠুন।
তাই রহস্যময় স্ট্যাটাসের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটি প্রশ্নই-মিঠুনের ‘সত্যিটা দেখার ইচ্ছে’র কথাটি আসলে কাদের উদ্দেশে? উত্তর অবশ্য মেলেনি তার পোস্টে। ফলে আপাতত তার এক স্ট্যাটাস ঘিরেই চলছে ক্রিকেটাঙ্গনের জল্পনা।



