ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) এবারের আসরে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের পথচলা শেষ হয়েছে ফাইনালের আগেই। দলটির বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের সিপিএল অভিযানও। গায়ানার হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তবে ব্যাট হাতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি তিনি।
গায়ানার হয়ে পাঁচ ম্যাচে ১১৪ রান খরচ করে মিরাজ শিকার করেছেন ৯ উইকেট। তার বোলিং গড় ১২.৬৬ এবং ইকোনমি রেট ৬.৫৭। টুর্নামেন্টে তাঁর শুরুটাও হয়েছিল স্বপ্নের মতো। সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই মাত্র ১৩ রান খরচ করে তিন উইকেট তুলে নেন তিনি।
এরপর ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে আরও দুর্দান্ত বোলিং করেন মিরাজ। ২৩ রান দিয়ে শিকার করেন চার উইকেট। পরের ম্যাচে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে ২৫ রান খরচায় নেন দুই উইকেট। ফলে টানা তিন ম্যাচেই তার উইকেটসংখ্যা দাঁড়ায় নয়টিতে।
তবে টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচে আর উইকেটের দেখা পাননি মিরাজ। অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের বিপক্ষে ১০ রান খরচ করেও ছিলেন উইকেটশূন্য। এরপর জ্যামাইকা কিংসমেনের বিপক্ষে ৪৩ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি তিনি।
এই দুই ম্যাচ ছিল গায়ানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো একটি ম্যাচ জিততে পারলেই ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হতো দলটির। কিন্তু দুই ম্যাচেই পরাজিত হয়ে ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয় গায়ানাকে।
দলীয় সাফল্যের দিক থেকে অবশ্য লিগ পর্বে দুর্দান্ত ছিল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। ১০ ম্যাচে আট জয় নিয়ে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল তারা। কিন্তু প্লে-অফে এসে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। ফাইনালে ওঠার দুটি সুযোগ পেলেও দুটিতেই পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় তাদের।
ব্যাট হাতে অবশ্য মিরাজের সময়টা ছিল হতাশার। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চার ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পান তিনি। সব মিলিয়ে তার সংগ্রহ মাত্র ২১ রান। এর মধ্যে এক ইনিংসেই করেন ১৮ রান, আর বাকি তিন ইনিংস মিলিয়ে তার সংগ্রহ মাত্র তিন রান। ফলে তার ব্যাটিং গড় দাঁড়ায় ৫.২৫ এবং স্ট্রাইক রেট ৪৮.৮৩।
ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে মিরাজের পারফরম্যান্স তাকে আলাদা করে নজরে এনেছে। এর আগে সিপিএলে একবার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে। তবে সেবার স্কোয়াডে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। এবার গায়ানার হয়ে পাঁচ ম্যাচে মাঠে নেমে নিজের বোলিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
এবারের সিপিএলে দল হিসেবেও গায়ানার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার উজ্জ্বল ছিলেন। ১২ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় রয়েছেন দলটির অধিনায়ক ইমরান তাহির। সমানসংখ্যক উইকেট নেওয়া অন্য বোলারদের ছাড়িয়ে কম বোলিং গড়ের কারণে তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি। ব্যাট হাতে ১২ ইনিংসে ৩৬৭ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন শিমরন হেটমায়ার।
শেষ পর্যন্ত এবারের সিপিএলের শিরোপা জিতেছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস। বার্বাডোজে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত ফাইনালে জ্যামাইকা কিংসমেনকে আট উইকেটে হারিয়েছে তারা। আগে ব্যাট করে ১৭০ রানের বেশি করতে পারেনি জ্যামাইকা। জবাবে ২০ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অ্যান্টিগা এবং শিরোপা নিশ্চিত করে।



