জাপানের মাটিতে পা রাখার আগেই দুঃংবাদ। এশিয়ান গেমসের সোনার লড়াই শুরু হওয়ার আগেই দলের ওপর নেমে এল বড় ধাক্কা। মিরপুরে যখন একদল ক্রিকেটার প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের শেষবারের মতো যাচাই করছেন, তখনই নিশ্চিত হলো-এই যাত্রায় সঙ্গী হচ্ছেন না মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে তার সময় লাগতে পারে প্রায় তিন সপ্তাহ। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
১৯ সেপ্টেম্বর অনুশীলনে বোলিং করার সময়ই ব্যথা অনুভব করেছিলেন সাইফউদ্দিন। প্রথমে ছিল অস্বস্তি, এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা। শারীরিক পরীক্ষা ও এমআরআইয়ের পর স্পষ্ট হয়ে যায়, এশিয়ান গেমসের আগে তাকে নিয়ে আর ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই।
জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ‘১৯ সেপ্টেম্বর অনুশীলনে বোলিং করার সময় ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করেন সাইফউদ্দিন। পরে শারীরিক পরীক্ষা এবং এমআরআই করানোর পর চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।’
ফিরতে কতটা সময় লাগবে, সেটিও জানিয়েছেন তিনি, ‘পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে প্রায় তিন সপ্তাহের মতো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে সাইফউদ্দিনকে।’
জাপানে বাংলাদেশের সোনার মিশনে একটি জায়গা এখন খালি। সেই জায়গা পূরণে অবশ্য খুব বেশি সময় নেই বিসিবির হাতে। এশিয়ান গেমসের দল অনেক আগেই আয়োজকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অনুমোদন প্রয়োজন।
এরই মধ্যে সাইফউদ্দিনের চোটের বিষয়টি বিওএকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বিসিবি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তার বিকল্প হিসেবে রিপন মন্ডলকে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে মেডিকেল রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গেমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। তিন দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার তাড়া রয়েছে বিসিবির।
চোটের তালিকায় অবশ্য শুধু সাইফউদ্দিনের নাম নেই। দেড় বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা নাজমুল হোসেনও আছেন অস্বস্তিতে। বাঁ পায়ের কনিষ্ঠ আঙুল ছিলে যাওয়ায় জুতা পরতেই পারছেন না তিনি। আজ মিরপুরে দুই ভাগে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও ব্যাটিং করেননি নাজমুল। মাঠের পাশে খালি পায়ে দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে।
তারপরও থেমে নেই দলের প্রস্তুতি। মিরপুরে আজ মুখোমুখি হয়েছিল টিম ‘এ’ ও টিম ‘বি’। লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন টিম ‘এ’-কে ছয় উইকেটে হারিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের টিম ‘বি’। ম্যাচটি ডাগআউটে বসে দেখেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এবং প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।
এই এশিয়ান গেমসের জন্য তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে ১৫ সদস্যের দল সাজিয়েছে বিসিবি। নেতৃত্বে লিটন দাস, তার সহকারী তাওহিদ হৃদয়। লক্ষ্যও স্পষ্ট-জাপানের আইচি–নাগোয়ায় সোনা জয়ের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।
২৪ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে শুরু হবে তাদের আসল পরীক্ষা। প্রথম পর্বের ফলের পর প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে আসতে পারে জাপান, হংকং, মালয়েশিয়া, নেপাল কিংবা ওমানের যেকোনো একটি দল।
কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে ১ অক্টোবর সকাল ৯টায় প্রথম সেমিফাইনাল। সেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।



