জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তরুণ ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন। চলতি আসরে তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ময়মনসিংহের এই ব্যাটার। তার অপরাজিত ১১৬ রানের ইনিংসে ভর করে তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিন শেষে ঢাকার বিপক্ষে ২২৬ রান তুলেছে ময়মনসিংহ। অন্যদিকে দিনের খেলায় অর্ধশতক পেয়েছেন সিলেটের জাকির হাসান ও খুলনার ইমরানউজ্জামান। তবে বোলারদের দাপটে তিনটি মাঠেই প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ইনিংস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টে খেলা ক্রিকেটারদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড শুরু হয়েছে এক দিন পিছিয়ে। তবে সিলেটের জাকের আলি ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ ছাড়া ওই টেস্টে খেলা ক্রিকেটারদের কেউই এই রাউন্ডে অংশ নিচ্ছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে বিশ্রামে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন চৌধুরি, তাইজুল ইসলাম ও সাদমান ইসলাম।
মাহফিজুলের ব্যাটে আরেকটি সেঞ্চুরি
কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে ঢাকার বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ৮৬ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৬ রান। দলের ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র মাহফিজুলই বড় ইনিংস খেলেছেন। দিনের শেষ ভাগে রিজান হোসেনকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান তিনি।
শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করা মাহফিজুল ১৪৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এরপর রানের গতি বাড়িয়ে পরের ৫০ রান তুলতে খেলেন মাত্র ৭১ বল। শেষ পর্যন্ত ২৩৭ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ১১৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন এই ওপেনার। রিজান ৯১ বলে ৪৩ রান করে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি মাহফিজুলের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এবারের লিগ শুরুর আগে ১৪ ম্যাচের ২৬ ইনিংসে তার সেঞ্চুরি ছিল মাত্র একটি। চলতি আসরের প্রথম পাঁচ ইনিংসেই আরও দুটি শতক তুলে নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। অন্য তিন ইনিংসের দুটিতেও তার ব্যাট থেকে এসেছে ৬৫ রানের বেশি।
ঢাকার হয়ে আমিনুল দুটি এবং সুমন ও আরিফ একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
জাকিরের ৭১, সিলেটের সংগ্রহ ১৭৯
চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরের বিপক্ষে ব্যাট হাতে একাই লড়েছেন সিলেটের অধিনায়ক জাকির হাসান। তবে শরীরের বিভিন্ন পেশিতে টান অনুভব করায় সম্ভাবনাময় ইনিংসটি সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি তিনি।
জাকিরের ১৩৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। দ্বিতীয় সেশনে ৪৯তম ওভারের প্রথম বল খেলার পর ক্র্যাম্পের কারণে ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। পরে ফিল্ডিংয়েও নামেননি সিলেট অধিনায়ক। বিশ্রামের পর দ্বিতীয় দিন মাঠে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী দলটির টিম ম্যানেজমেন্ট।
জাকির ছাড়া সিলেটের অন্য কোনো স্বীকৃত ব্যাটার ২৫ রানও করতে পারেননি। জাকের আলি করেন ১৯ রান। আর আট নম্বরের পর ব্যাটিংয়ে নেমে খালেদ ২৬ রান করলে ৬৮ ওভারে ১৭৯ রানে অলআউট হয় সিলেট।
রংপুরের হয়ে মেহেদি হাসান ও স্বাধীন ইসলাম তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। জবাবে দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৩২ রান করেছে রংপুর। দলটি এখনো সিলেটের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৪৭ রানে পিছিয়ে।
ইমরানউজ্জামানের অপরাজিত ৬৪
সিলেটের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে খুলনার প্রথম ইনিংস থেমেছে ২০১ রানে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করে অপরাজিত রয়েছেন ইমরানউজ্জামান। ২৩ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তাঁর অষ্টম অর্ধশতক।
তরুণ ওপেনার আজিজুল হাকিমও ভালো শুরু করেছিলেন। তবে ৪২ রান করার পর রানআউট হয়ে পঞ্চাশের দেখা পাননি তিনি। অন্যদিকে এনামুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন ও আফিফ হোসেনরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই শ রানের বেশি এগোতে পারেনি খুলনা।
চট্টগ্রামের হয়ে শরিফ তিনটি, রুবেল ও মুরাদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। জবাবে প্রথম দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে তিন উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করেছে চট্টগ্রাম। আগের রাউন্ডে সেঞ্চুরি করা শাহাদাত হোসেন ২০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। প্রথম ইনিংসে এখনো ১২৯ রানে পিছিয়ে চট্টগ্রাম।
বরিশালের ২২৯, সানজামুলের চার উইকেট
তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে দলীয় সংগ্রহে এগিয়ে ছিল বরিশাল। রাজশাহীর বিপক্ষে ৬৮.১ ওভারে ২২৯ রানে অলআউট হয়েছে দলটি। তবে বরিশালের কোনো ব্যাটারই অর্ধশতক করতে পারেননি। চারজন ব্যাটার ৩০ বা তার বেশি রান করেছেন।
তরুণ ওপেনার জাওয়াদ আবরার ৪২ বলে ৪০ রান করে দলকে দ্রুত শুরু এনে দেন। উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪১ রান। শেষ দিকে শহিদুল ইসলাম ৩৬ বলে ৩২ এবং কামরুল ইসলাম ৬৩ বলে ৩৬ রান করে দলের সংগ্রহ দুই শ ছাড়িয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডব্লিউসিএল খেলে ফেরা ফজলে মাহমুদ অবশ্য ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি।
রাজশাহীর অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। ১১.৫ ওভার বল করে পাঁচটি মেডেনসহ মাত্র ১৫ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন তিন উইকেট, মেহেরব নিয়েছেন দুটি।
জবাবে দিনের শেষ দিকে ১০ ওভার ব্যাট করে এক উইকেট হারিয়ে ২৪ রান করেছে রাজশাহী। প্রথম দিন শেষে দলটি বরিশালের চেয়ে ২০৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে।



