অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর কাউন্টি ক্রিকেটে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। কেন্টের হয়ে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে দলকে প্রথম ইনিংসে লিড এনে দেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থদেরও মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশের এই পেসার।
ক্যান্টারবুরিতে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে হাসানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন কেন্টের পেসার ম্যাট মিলনেস। বাংলাদেশের পেসারকে দলের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসান অসাধারণ একজন বোলার এবং তার উপস্থিতি কেন্টের বোলিং আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এমন একজন ক্রিকেটারকে দলে পেয়ে নিজেদের ভাগ্যবান বলেও মনে করেন মিলনেস।
উস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬৮ রান দিয়ে চার উইকেট নেন হাসান। নতুন বল হাতে শুরুতেই জেইক লিবির দুই স্টাম্প উপড়ে দেন তিনি। পরের বলেই রেহান এডাভালাথকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করেন এই পেসার। পরে ম্যাথু ওয়েট ও শেষ ব্যাটসম্যান অ্যাডাম ফিঞ্চকে আউট করে উস্টারশায়ারের ইনিংস ২১৭ রানে গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
এর আগে কেন্ট নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রান করায় ২১ রানের লিড পায়। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে হাসানের কার্যকর বোলিংয়ের ফলে উস্টারশায়ারকে তুলনামূলক কম রানে আটকে রাখতে সক্ষম হয় কেন্ট।
হাসানের বোলিংয়ের ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্যও আলাদা করে নজর কেড়েছে মিলনেসের। তার মতে, ভালো গতির সঙ্গে হাসানের কিছুটা ভিন্ন বোলিং অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য তাকে বুঝে ওঠা কঠিন করে তোলে। ফলে কেন্টের বোলিং আক্রমণে তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা এক ধরনের বৈচিত্র্য যোগ করছেন।
কাউন্টি ক্রিকেটে হাসানের দারুণ পারফরম্যান্স অবশ্য নতুন নয়। গত জুনে কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ১২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। অভিষেক ম্যাচে ছয় উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ছয় উইকেট শিকার করেন এই ডানহাতি পেসার। এরপর কেন্টের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টেও তিনটি ম্যাচ খেলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে কাউন্টিতে ফিরেও সেই ছন্দ ধরে রেখেছেন হাসান। উস্টারশায়ারের বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, ইংলিশ কন্ডিশনেও তিনি কেন্টের বোলিং আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। ডিভিশন টু থেকে ডিভিশন ওয়ানে ওঠার লড়াইয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা কেন্টের জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



