এশিয়ান গেমসের পর বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। নারী এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর তাকে ঘিরে সমালোচনা এবং সতীর্থদের অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসায় তার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই অভিমানের ফল হিসেবে দেখেছিলেন। তবে সেই ধারণা সরাসরি নাকচ করেছেন জ্যোতি। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা কিংবা কোনো ধরনের অভিমান থেকে নয়, বরং ব্যাটার ও ক্রিকেটার হিসেবে দলকে আরও বেশি কিছু দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘না, না, না। আমার কাছে মনে হয় ব্যাটার হিসেবে, খেলোয়াড় হিসেবে আমার দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তাই আমি এটার দিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।’
ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। ভারত ১৯৫ রান করার পর বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৮১ রানে। ফলে বাংলাদেশকে হারতে হয় ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের বিশ্লেষণে জ্যোতি মনে করেন, বোলিংয়ে আরও কিছুটা ভালো করতে পারলে ভারতের রান আরও কমানো সম্ভব ছিল।
জ্যোতি বলেন, ‘আজ ফ্ল্যাট ট্র্যাক ছিল। অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে ওরা। এত রানের তাড়া থাকলে এরকম অবস্থাই হয়, এটা স্বাভাবিক। তবে আমার কাছে মনে হয় আরেকটু ভালো বোলিং করলে আরও কিছু কম রান হতো ওদের পক্ষ থেকে।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্যও স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বড় ব্যবধানে হারের পর জ্যোতি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য অনেক বেশি। তবে আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’
তবে বড় রান তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক মনে করছেন না জ্যোতি। তার ব্যাখ্যা, রান পাহাড়ের চাপ থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এত রানের যখন একটা তাড়া থাকে, তখন এসে এরকম ব্যাটিং বিপর্যয় হয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আরেকটু ভালো বোলিং করলে হয়তোবা আরও কিছু কম রান হতো।’
অন্যদিকে, আগের ম্যাচে একই উইকেটে পাকিস্তানের দেওয়া বড় লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করেছিল শ্রীলঙ্কা। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের মাত্র ৮১ রানে অলআউট হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে অবশ্য গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না জ্যোতিও। নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘একদমই না। দেখেন, যেখানে এত অল্প রানে একটা টিম কলাপস করে, সেখানে আসলে আমরা ব্যাটাররা কোনো দায়িত্বই নিতে পারিনি।’
এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে আর থাকবেন না জ্যোতি। নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেও ম্যাচ শেষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। জ্যোতির ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয় একজন ব্যাটার এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তাই আমি সেদিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এজন্যই এই ডিসিশন।’
এদিকে ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর নিজেদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করছিলাম, তাই পেয়েছি। আশা করছি, আমরা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখব।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত নারী দলের ম্যাচগুলোতে নানা আলোচনা তৈরি হলেও সেটিকে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে দেখছেন না হারমানপ্রীত। তার বক্তব্য, ‘বিশেষ কিছু নয়। আমরা কেবল আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে চাই। সামনে কে প্রতিদ্বন্দ্বী, সেটা কোনো বিষয় নয়। আমরা সবসময় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।’
এদিকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কোচিং স্টাফেও। নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ব্যাটিং কোচ নাসিরউদ্দিন ফারুকীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এশিয়ান গেমসেও একই ধরনের ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখা দেওয়ার পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র।
এশিয়ান গেমস শেষে নারী দলের কোচিং কাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে। নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ডেভিড হেম্পকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেবেন বলে জানা গেছে। ব্যাটারদের নিয়েও হেম্প কাজ করবেন। পাশাপাশি ফিল্ডিং কোচ হিসেবে গোলাম মুর্তাজাকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দলের সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।



