এশিয়া কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ফাইনাল খেলা। দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সেই সমীকরণ আর নিজেদের হাতে থাকেনি। ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল ভারত।
বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। কাগজে-কলমে এই লড়াইয়ে স্পষ্ট ফেভারিট ভারত। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। বিপরীতে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠেছে নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি কিংবা ম্যাচের গুরুত্বকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন না অভিজ্ঞ ব্যাটার শারমিন আক্তার সুপ্তা। বরং ভারতের মতো দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগকেই তিনি দেখছেন উপভোগের উপলক্ষ হিসেবে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সুপ্তা বলেন, ‘আমার মনে হয় মাঝেমধ্যে চাপ থাকবে, যদি সেভাবে ভাবেন আরকি। আমাদের জন্য ব্যাপারটা আনন্দের। আমরা ভারতের মত দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাচ্ছি, তারা শীর্ষ দল। যদি চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তাহলে এমন দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। ফলে ব্যাপারটা আনন্দের, চাপের না।’
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কাজটা যে সহজ হবে না, সেটি অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখে না। ওয়ানডে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত টি-টোয়েন্টিতেও এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল। চলতি আসরে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি হারমানপ্রিত কৌরের দল। সেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটিং।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করতে পারে ১১৪। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ব্যাটিং আরও ভেঙে পড়ে। মাত্র ১০৩ রানেই থামে ইনিংস। ৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর জুরাইরা ফেরেন, এরপর নিগার সুলতানার সঙ্গে ২৯ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি দিলেও ৫৫ রানের মধ্যেই ছয় উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই ধসের মধ্যে দলের হাল ধরেন একাদশে ফিরে আসা সুপ্তা। ৩১ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ রানের ইনিংস খেলে তিনি নাহিদা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৪২ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত একশ পেরোনো সংগ্রহই বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি তৈরি করে। পরে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩৪ রানের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
দ্রুত ছয় উইকেট হারানোর প্রসঙ্গে সুপ্তা বলেন, “মাঝেমধ্যে এরকম (দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়া) হতেই পারে। আমার মনে হয়েছে তখন টিকে থেকে টেইলএন্ডারদের সাথে জুটি বানানো দরকার ছিল। কারণ শুরুতে যখন ৫-৬ উইকেট হারিয়ে ফেলবেন, তখন কিছুটা বিপদে তো পড়বেন।”
ব্যাটিং বিপর্যয়ের সেই মুহূর্তে নাহিদার সঙ্গে জুটিটাই বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। সতীর্থের অবদানের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন সুপ্তা, ‘নাহিদা দারুণ ছিল। সে আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে এবং তাকে নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ যে একশ পার করতে পেরেছি। আমরা আমাদের বোলিং নিয়ে আগেই জানতাম (তাই রান নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম)।’
তবে ব্যক্তিগত ব্যাটিং নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সুপ্তা। টি-টোয়েন্টিতে দর্শকদের প্রত্যাশার কথাও মাথায় আছে তার। ‘আসলে সেভাবে না (সন্তুষ্ট না)। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবাই চার-ছক্কা দেখতে চায়। বাউন্ডারি দেখতে চায়। তারা এসব দেখতেই আসে। সেগুলো এনে দিতে হলে (ভালো পিচ দরকার)। তবে প্লেয়ার হিসেবে তো মানিয়ে নিয়ে খেলতেই হবে।’
ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশিত ছন্দ না থাকলেও বাংলাদেশের বোলিং এখন পর্যন্ত দলকে বারবার ম্যাচে ফিরিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও আরব আমিরাতের বিপক্ষে তুলনামূলক কম রান করেও সহজ জয় পাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল বোলারদের। ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষেও তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারে বোলিং আক্রমণ।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ বাংলাদেশ। বিপরীতে ‘এ’ গ্রুপে তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় নিয়ে ছয় পয়েন্টে শীর্ষে ভারত। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হচ্ছে অন্য গ্রুপের রানার্সআপরা। ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশের সামনে এখন ভারতকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ।



