এক হাতে ব্যাট, অন্য হাতে গ্লাভস। তার ওপর দলের নেতৃত্বের ভার। বছরের পর বছর এই তিন দায়িত্ব একসঙ্গে সামলেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। এবার সেই ভারের একটি অংশ নামিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে আর থাকছেন না জ্যোতি।
জাপান থেকে খুদেবার্তায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। বিসিবিকেও এরই মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাপান থেকেই ই-মেইলের মাধ্যমে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও নারী ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান নিগার। তার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
এশিয়ান গেমস শেষ হলেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিগারের অধ্যায় শেষ হবে। তবে নেতৃত্ব থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না তিনি। ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাবেন ২৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
কেন এমন সিদ্ধান্ত? নিগারের উত্তর, এবার নিজের খেলায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি। বিশেষ করে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে নিজেকে আরও কার্যকর করে তুলতে চান। দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের চাপ সামলে আসার পর এবার নিজের পারফরম্যান্সকে সামনে রাখতেই টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তার।
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে এই সংস্করণে টানা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিগার। দুই সংস্করণেই নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশ নারী দলের অন্যতম পরিচিত মুখ।
তার অধিনায়কত্বের সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প লেখা হয় ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর পর বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচসহ পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট ও গ্লাভস হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নিগার। চার ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৪ রান, উইকেটের পেছনে নেন সাতটি ডিসমিসাল।
কিন্তু সাফল্যের সেই ছবির পাশাপাশি এসেছে হতাশার অধ্যায়ও। সাম্প্রতিক সময়ে দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরই ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার।
স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজেও প্রত্যাশামতো ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। এরপর বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে মাত্র দুটি জয়। একের পর এক ম্যাচের ফলাফল নিগারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।
বড় দলগুলোর বিপক্ষে বারবার একই ধরনের ব্যর্থতা সামনে আসায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক এশিয়া কাপ সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করে। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৪০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
সেই ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটিং হতাশ করেছে। প্রতিপক্ষ যখন চাপ তৈরি করেছে, তখন সেই চাপ সামলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার মতো ব্যাটিং করতে পারেনি দল।
জ্যোতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৮০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছে। এর মধ্যে জয় ৩২টি, হার ৪৭টি। একটি ম্যাচে কোনো ফল হয়নি।



