একসময় তাদের লড়াই ছিল ২২ গজে। আজ সেই ক্রিকেটের পরিচয়ই হয়ে উঠেছে মানবিক উদ্বেগের ভাষা। পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দী সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা ও জীবনযাপন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাত সাবেক অধিনায়ক এবার চিঠি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংকে।
অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ স্বাক্ষর করা চিঠিতে পরিষ্কার করে বলেছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কথা বলছেন না, ‘এই (সাবেক অধিনায়কদের) দল জনাব খানের বিরুদ্ধে চলা আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।’ তাদের উদ্বেগ একজন বন্দী মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে। চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘রাজনীতি যা–ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়’।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কারাগারে। তার পরিবার অভিযোগ করে আসছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনি সহায়তা-সব ক্ষেত্রেই নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চিকিৎসা ও সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে হচ্ছে না বলেই দাবি তাদের।
এর আগে ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একই বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম, প্যাট কামিন্স ও ব্রায়ান লারার মতো ক্রিকেটাররাও তার চিকিৎসা ও মানবিক অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন।
তবে সবচেয়ে ব্যক্তিগত সুরটি এসেছে মাইকেল হোল্ডিংয়ের কণ্ঠে। ইমরানের সঙ্গে খেলেছেন তিনি, আবার ক্রিকেটের বাইরেও কাটিয়েছেন সময়। ক্যানসার হাসপাতালের জন্য লন্ডনে তহবিল সংগ্রহের সময় ইমরানের সঙ্গী ছিলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি।
সেই সম্পর্কের কথা মনে করে হোল্ডিং বলেন, ‘তাই আমি মানুষটিকে ভালোভাবে জানি এবং তিনি ঠিক কী ধরনের মানুষ, তা আমার জানা আছে। বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইমরান খানের সঙ্গে যা ঘটছে, তা দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
ইমরানের পক্ষে লেখা চিঠিগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে অধিনায়কেরা ওই চিঠি লিখেছেন, আমি তাদের পুরোপুরি সমর্থন করি। এর কী প্রভাব পড়বে আমি জানি না, তবে মানুষটিকে যেন সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়-সেই চেষ্টার প্রতি আমি পূর্ণ সমর্থন করি। কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না। খুনির সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয় না। তাহলে এই মানুষটির সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হবে, তার কোনো কারণ আমি দেখি না।’
১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান পরে রাজনীতিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। আজ তিনি কারাগারে। আর তার পুরোনো ক্রিকেট-পরিচয়ই যেন এখন হয়ে উঠেছে তাঁর পক্ষে সবচেয়ে জোরালো মানবিক কণ্ঠ-রাজনীতির বাইরে, শুধু একজন মানুষের জন্য।



