ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচের শুরুতে চাপে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রানে ৪ উইকেট পড়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২২৮ রানের লিড মুছে ফেলতে স্বাগতিকদের এখনও প্রয়োজন ৬৭ রান। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ইমরুল।
গণমাধ্যমের সঙ্গে ইমরুল বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই টেস্টটি আমরা জিতব। কারণ এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমি কখনো বাংলাদেশ দলকে টেস্ট ম্যাচ হারতে দেখিনি। আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে বাংলাদেশ এই টেস্ট ম্যাচটি জিতবে।’
তবে ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের এমন দাপুটে অবস্থান কল্পনা করেননি বলেও জানান সাবেক এই ওপেনার। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। নিজের অনুশীলনস্থলে অন্য দেশের মানুষদের কাছ থেকেও বাংলাদেশের রান নিয়ে প্রশ্ন শুনতে হয়েছিল তাকে।
ইমরুল বলেন, ‘সত্যি বললে, না ভাবিনি। বাংলাদেশ যখন ৫৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল, তখন একটু খারাপ লাগছিল। আমি যেখানে অনুশীলন করাই, সেখানে আমাদের দেশের কিছু কিংবা আশেপাশের দেশের মানুষ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করছিল যে, ‘তুমি বাংলাদেশের রান দেখেছ?’ আমি বললাম, ‘না, দেখিনি।’ যখন দেখলাম, খুব খারাপ লাগল।’
তবে সেই হতাশার মধ্যেও বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস হারাননি ইমরুল। তার সেই বিশ্বাস বাস্তবে রূপ নেওয়ায় এখন গর্বিত তিনি। প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ যেভাবে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করছে, সেটিকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিরল ঘটনা হিসেবেই দেখছেন তিনি, ‘আমি সেদিনই একটা কথা বলেছিলাম যে, বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়াবে, এটা আমার বিশ্বাস। এবং আমি আশা করি যে সেটা করেছে। প্রথম দিন থেকেই তারা যেভাবে খেলাটিতে আধিপত্য বিস্তার করে ক্রিকেট খেলছে, তা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে খুব কম দলই আছে যারা এভাবে দাপটের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছে।’
বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে দলের আত্মবিশ্বাসকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ইমরুল। টেস্ট চলাকালে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তার একবার কথা হয়েছিল। তখন মিরাজের ব্যাটে ছিল সেঞ্চুরি। দলের পরিস্থিতি জানতে চাইলে মিরাজের সরাসরি জবাব ছিল, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেবে।
ইমরুল বলেন, ‘মিরাজ ১০০ রান করেছিল, তখন আমাকে বলল, ‘ইমরুল ভাই, আমরা (অস্ট্রেলিয়াকে) হারিয়ে দেব।’
মিরাজের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে অবাক হলেও তার কথার ধরন ইমরুলের মনে আলাদা আশাবাদ তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ওর কথাটা শুনে একটু অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে, ও যে কতটা আত্মবিশ্বাসী! এটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। মিরাজ অনেক সময় অনেক কথা বলে, কিন্তু ওর বলার যে ভঙ্গিটা ছিল, সেটা দেখে আমার মনে হচ্ছিল যে না, বাংলাদেশ দল হয়তো ভিন্ন কিছু করবে।’
ডারউইনে মাঠে বসে বাংলাদেশের লড়াই দেখছেন ইমরুল। দীর্ঘ ভ্রমণ করে রাতের বেলায় সেখানে পৌঁছানোর পরও ম্যাচের উত্তেজনা তার ক্লান্তি দূর করে দিয়েছে। গ্যালারিতে বাংলাদেশের সমর্থকদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানও তাকে আবেগাপ্লুত করেছে।
ইমরুল জানান, সাড়ে চার ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে রাতে ডারউইনে পৌঁছে রাত ২টায় নামার পর সকালেই মাঠে চলে যান তিনি। তবে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের কারণে সেই ক্লান্তি আর অনুভব করছেন না।



