বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলকে। প্রায় ১১ মাস এই দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আপাতত জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হলো তাকে।
ব্যাটিং কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আশরাফুলের চুক্তির মেয়াদ এখনও তিন মাস বাকি। এই সময়ে তাকে বোর্ডের অন্য কোনো দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশরাফুল নিজেও।
নিজের বিদায় প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের আশরাফুল বলেন, ‘মাত্র গতকালই (২৪ অক্টোবর) জানলাম। মাগরিবের পর জানতে পারলাম, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে রেস্ট দেওয়া হয়েছে। পরের ৩ মাস যখন কোনো অ্যাসাইনমেন্ট থাকবে তখন জানানো হবে। যারা আমরা থাকি কোচ হিসেবে, সবার চুক্তিটা এভাবেই হয় যে ক্রিকেট বোর্ড, উনারা যদি মনে করেন, তারা আমাকে অন্য কোথাও কাজ করাবেন, তা তাদের এখতিয়ারে আছে। এটাই।’
আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগে ব্যাটিং কোচের পরিবর্তন নিয়ে অবশ্য খুব বেশি চিন্তিত নন আশরাফুল। তার মতে, টেস্ট দল ভালো ছন্দে রয়েছে এবং দলটির সমন্বয়ও বেশ গোছানো।
টেস্ট দলের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আশরাফুল বলেন, ‘আমাদের দল আমি মনে করি (টেস্টে) ভালো ট্র্যাকেই আছে। যদিও আমরা ওয়ানডেতে ভালো করতে পারিনি ত্রিদেশীয় সিরিজে। আমাদের টেস্ট দল কিন্তু খুবই গোছানো মাশাআল্লাহ। আমি যখন ২০২৫ সালের নভেম্বরে দায়িত্বে আসি, আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে, আমি কিন্তু তখনই বলেছিলাম, আমাদের টেস্ট দলটা কিন্তু সবচেয়ে গোছানো, অভিজ্ঞ। ফলও যদি দেখেন, আমি ঢোকার পরে, আলহামদুলিল্লাহ ৮ টেস্টে ৫ জয়, সাথে ১ ড্র। ব্যাটারদের গড়ও ৫০-৫২ বা ৪৫ এরকম। ব্যাটাররা সবাই ভালো করছেন। ৮ টেস্টে ৯ সেঞ্চুরি, ২২-২৩ ফিফটি, ১০০ রানের জুটি প্রায়ই হয়েছে। যে দুই টেস্টে আমরা জুটি বানাতে পারিনি সেখানে আমরা হেরেছি জিম্বাবুয়ে এবং ম্যাকাইয়ে।’
টেস্ট দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট আশরাফুল মনে করেন, দল নিয়মিতই ভালো করেছে। তবে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু জানেন না তিনি। নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই জাতীয় দলের মতো বড় দায়িত্ব পাওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
আশরাফুল আরও বলেন, ‘এছাড়া প্রতি টেস্টেই আমাদের দল ভালো করেছে। এটা বোর্ড ভালো বলতে পারবে কেন (আমি) নেই, আমি একজন পেশাদার কোচ যেহেতু, আমার ক্যারিয়ার কেবল শুরু। আমি ভাগ্যবান যে শুরুতেই এত বড় একটা কাজ করতে পেরেছি বাংলাদেশ দলের হয়ে। আশা করি সামনে আরও অনেক কিছু শিখব ইনশাআল্লাহ, আরও ভালো কাজ করতে পারব।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক দেশই টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোচ নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশেও লাল ও সাদা বলের ক্রিকেটে আলাদা কোচ রাখা উচিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল বলেন, ‘এটা আসলে আমি এখন বলতে চাচ্ছি না।’
জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও বিসিবির সঙ্গে তার কাজের সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। চুক্তির বাকি তিন মাসে বোর্ডের অন্য কোনো দায়িত্ব পেলে তা পালন করবেন তিনি। আপাতত জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই আশরাফুলের। বরং বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘আক্ষেপ নাই। আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক খুশি। আমি শুরুতেই বলেছিলাম, প্রথম এক সিরিজে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের হয়ে এক দিন কাজ করতে পারাটাও গর্বের ব্যাপার। আমি ১১ মাস কাজ করতে পেরেছি। অনেক ভালো অনেক খারাপ সবকিছু মিলিয়েই সময় কাটিয়েছি। আবার সামনে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।’
আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে। সিরিজের আগে ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে পরিবর্তন এলেও টেস্ট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদী আশরাফুল।



