জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন তিন বাঁহাতি বোলার-খুলনার রাকিব হাওলাদার, রাজশাহীর শফিকুল ইসলাম ও সিলেটের নাসুম আহমেদ। স্বীকৃত ক্রিকেটে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়ে খুলনার জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ১৭ বছর বয়সী রাকিব। তার সঙ্গে শেখ মেহেদি হাসানের কার্যকর বোলিংয়ে চট্টগ্রামকে ১০ রানে হারিয়েছে খুলনা। অন্যদিকে শফিকুলের পাঁচ উইকেটে বরিশানকে হারিয়ে প্রথম জয় পেয়েছে রাজশাহী। নাসুম ও নাঈম আহমেদের স্পিনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে হারিয়েছে সিলেট। অপর ম্যাচে ঢাকা ও ময়মনসিংহের লড়াই শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
কনকাশন বদলি হয়ে রাকিবের পাঁচ উইকেট
সিলেটের একাডেমি মাঠে ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে বিনা উইকেটে ১২৯ রান তুলে জয়ের পথে এগিয়ে ছিল চট্টগ্রাম। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় খুলনা। শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রানে অলআউট হয়ে ১০ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে চট্টগ্রাম।
এই জয়ের নায়ক ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার রাকিব হাওলাদার। ম্যাচের শুরুর একাদশে ছিলেন না তিনি। ব্যাটিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় সামিউন বশিরের কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পান রাকিব। একই ধরনের খেলোয়াড় হিসেবে বদলি হয়ে পাওয়া সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি।
আগের দিন চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে চার উইকেট নিয়েছিলেন রাকিব। ম্যাচের শেষ দিনে আহমেদ শরিফকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচেই এমন কীর্তি গড়েন এই তরুণ স্পিনার। গত জুলাইয়ে ঢাকার তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলেছিলেন তিনি। এর আগে খেলেছেন ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ ও অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় টুর্নামেন্টে।
রাকিবের পাশাপাশি খুলনার হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শেখ মেহেদি হাসান। চট্টগ্রামের অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ৩৭ বলে ৪৬ রান করে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। তবে মেহেদির স্পিন ও অন্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি চট্টগ্রাম।
তিন ম্যাচে এটি খুলনার দ্বিতীয় জয়। সাতবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি একটি বোনাস পয়েন্টসহ ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
শফিকুলের পাঁচ উইকেটে রাজশাহীর প্রথম জয়
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালকে আট উইকেটে হারিয়ে এবারের আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে রাজশাহী। টানা তিন ম্যাচ হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে রয়েছে বরিশাল।
দিনের খেলা শুরু হওয়ার আগে ২১ রানে এগিয়ে ছিল বরিশাল, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট। কিন্তু শেষ দিনে মাত্র ২৫ রান যোগ করতেই বাকি পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। বরিশালের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৭৪ রানে। রাজশাহীর বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলাম শেষ চার উইকেটের তিনটি নয়, শেষ চার উইকেটের মধ্যে চারটিই তুলে নিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি।
প্রথম ইনিংসে ৪৫৭ রান করে সাত উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করেছিল রাজশাহী। ফলে জয়ের জন্য তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ রান। দুই উইকেট হারিয়ে ১০.৫ ওভারেই সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। প্রথম দুই রাউন্ডে ড্র করা রাজশাহী অবশেষে জয়ের স্বাদ পেল। ম্যাচসেরা হয়েছেন নাঈম আহমেদ।
নাসুম-নাঈমের স্পিনে হারল চ্যাম্পিয়ন রংপুর
নাসুম আহমেদ ও নাঈম আহমেদের ঘূর্ণিতে রংপুরকে ৩৭ রানে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে প্রথম জয় পেয়েছে সিলেট। ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে দুই উইকেটে ১০২ রান তুলে ভালো অবস্থানে ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর। কিন্তু এরপর মাত্র ৭০ রানের মধ্যে শেষ আট উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানে গুটিয়ে যায় দলটি।
রংপুরের অনিক সরকার ৫৫ এবং আবদুল্লাহ আল মামুন ৪৪ রান করে দলকে জয়ের পথে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অনিককে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের জুটি ভাঙেন নাসুম। পরে নাঈমের বলে ফেরেন মামুন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে রংপুর।
সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম ৬৯ রানে পাঁচ উইকেট নেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর ১২তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। অন্যদিকে দুই ইনিংস মিলিয়ে আট উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন নাঈম আহমেদ।
এর আগে সিলেটের দ্বিতীয় ইনিংস ২৩৭ রানে শেষ হয়। দলের হয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেও ৯৪ রানে আউট হন অমিত হাসান। রংপুরের বাঁহাতি স্পিনার আবু হাশিম চার উইকেট নিয়ে সিলেটের ইনিংস গুটিয়ে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সিলেট।
আরিফুলের ৯২, ঢাকা-ময়মনসিংহ ম্যাচ ড্র
কক্সবাজারে ঢাকা ও ময়মনসিংহের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ড্রয়ে। চার দিনের লড়াইয়ে দুই দলের বোলাররা মোট ২৩টি উইকেট নিতে পেরেছেন। শেষ দিনে ঢাকা প্রথম ইনিংসে ৩৭৭ রানে অলআউট হয়। এর আগে ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৮৭ রান।
১০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ময়মনসিংহের হয়ে দারুণ খেলেছেন আরিফুল ইসলাম। পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় ৯২ রান করেন তিনি। শতরানের কাছাকাছি গিয়েও সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি এই ব্যাটার। আরিফুল আউট হওয়ার পরই ম্যাচের ফল ড্র মেনে নেয় দুই দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ছিল তিন উইকেটে ১৬৭ রান।
তিন ম্যাচ শেষে ঢাকা ও ময়মনসিংহের কেউই জয় পায়নি, তবে কোনো দলকেই হারতে হয়নি। অন্যদিকে তৃতীয় রাউন্ডে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের জয় এনসিএলের পয়েন্ট তালিকায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট পাওয়া রাকিব হাওলাদারের পারফরম্যান্স ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



