আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সমীকরণ ছিল স্পষ্ট-ফাইনালে উঠতে হলে জিততে হবে অন্তত ৪১ রানে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১.৩ ওভারে ৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ৭ ওভারের মধ্যেই ২৮ রানে নেই প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজন। শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
গত রাতে ম্যাচ শেষে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে হৃদয় জানালেন, বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের কথা বললেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না দল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে যখন খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পেছনে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন হৃদয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমরা কিছু উইকেট হারাই। আমার মনে হয় এটাই মূল কারণ।’
তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে শুরুতে ধস নামার ঘটনা নতুন নয়। চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগেছে দল। ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। আবুধাবির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় পুরো দল।
শুরুতে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় বিপর্যয় থেকে কিছুটা রক্ষা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো পুঁজি পায়নি দল। হৃদয়ও মনে করেন, ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে একসঙ্গে ব্যর্থ হওয়াটাই হারের বড় কারণ।
পাইপলাইনে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও ব্যাটিংয়ে এমন বিপর্যয় কেন, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেন, ‘একটা জায়গা নিয়ে বলতে চাচ্ছি না; কারণ, ব্যাটিং ইউনিট পুরাটাই একসঙ্গে ব্যর্থ হয়েছি। পাইপলাইনে অবশ্যই পর্যাপ্ত খেলোয়াড় আছে।’
বাংলাদেশ একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে দলের। কিন্তু দেশের বাইরে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না। জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ হার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতা দলটির সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে এনেছে।
বিদেশের মাটিতে টানা ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে হৃদয় বলেন, ‘একটা-দুটো ম্যাচ বা এক-দুইটা সিরিজ দিয়ে আমি পুরো দলকে বলতে চাই না যে, দলের কী হলো! আমি বলব দল ভালো অবস্থায় আছে, কিন্তু আমরা ব্যাটিং ইউনিট বাইরে যে কয়টা ম্যাচ খেলেছি, টানা খুব বাজে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দলই ভুগছে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ যে ১০০ রান কম করেছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ভালো ছিল উল্লেখ করে হৃদয় বলেন, ‘আমরা ১০০ রান কম করেছি। উইকেট খুবই ভালো ছিল।’
ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে টপঅর্ডারের ব্যর্থতাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন হৃদয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা দিনের পর দিন একই ভুল করছি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আবারও ভুল করছি। শুরুতেই কয়েকটা উইকেট হারিয়েছি। ওইটাই আসল কারণ। টপঅর্ডারে রান করতে হবে। নাহলে আপনি টিকতে পারবেন না। আমরা এটা নিয়ে কাজ করব।’
পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এক বছরেরও কম সময় হাতে থাকায় বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই যেখানে ব্যাটিং নিয়ে ভুগতে হচ্ছে, সেখানে বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে উদ্বেগ থাকছেই।
হৃদয় অবশ্য এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছাড়ছেন না। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে, এমনকি ফিল্ডিংয়েও কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। হাতে সময় আছে। আশা করছি এটা নিয়ে কাজ করব এবং ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে ঘুরে দাঁড়াব।’
আগামী বছরের এশিয়া কাপকে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। সেই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে দলকে ভালো অবস্থানে নেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর। হৃদয় বলেন, ‘ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ আমাদের জন্য বড় সুযোগ। আমাদের অবশ্যই ভালোভাবে বসে বা যেকোনোভাবে দলটাকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে; কারণ, এশিয়া কাপ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ। আশা করি, ইনশা আল্লাহ আমরা ভালো কিছু করব।’



