জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে ব্যাটসম্যানদের দাপট দেখা গেছে আজ তৃতীয় দিনে। দিনটিতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন সিলেটের অমিত হাসান ও আশরাফুল হাসান রিহাদ এবং বরিশালের ফজলে রাব্বি। বড় সংগ্রহ গড়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল। অন্যদিকে ঢাকার বিপক্ষে ইনিংস হারের শঙ্কায় দিন শেষ করেছে রাজশাহী।
রাজশাহীতে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ঢাকা। জবাবে ৬ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা রাজশাহী অলআউট হয় ১৬২ রানে। এরপর ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে ৫ উইকেটে ২১৫ রান তুলেছে দলটি। ইনিংস হার এড়াতে এখনো ১৪৪ রান প্রয়োজন রাজশাহীর।
দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহীর হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সাব্বির রহমান। দিন শেষে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসেও ৫৪ রান করেছিলেন তিনি। ফলে শেষ দিনে রাজশাহীর ইনিংস হার এড়ানোর লড়াইয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন সাব্বির।
এর আগে ঢাকা বিভাগের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। তার ২৮২ রানের বড় ইনিংসে ভর করেই ৫২১ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল ঢাকা। মৌসুমে প্রথম জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করা দলটি রাজশাহীর বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি বোনাস পয়েন্ট পাওয়ারও সুযোগ তৈরি করেছে।
কক্সবাজারে সিলেট ও খুলনার ম্যাচে রানের পাহাড় গড়েছে সিলেট। বৃষ্টিতে প্রথম দিনের খেলা পুরোপুরি ভেসে যাওয়ার পরও তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ৫৭৫ রান তুলেছে দলটি। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় অমিত হাসান ১৭১ এবং আশরাফুল হাসান রিহাদ ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে সিলেট অধিনায়ক জাকির হাসান ১৬০ রানের ইনিংস খেলেন। ফলে ম্যাচের প্রথম ইনিংসই এখনো শেষ না হওয়ায় শেষ দিনে বড় কোনো নাটকীয়তা না ঘটলে সিলেট-খুলনা ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ১২তম সেঞ্চুরি পাওয়া অমিত হাসান ২৯৬ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও ২টি ছক্কা মেরেছেন। অন্যদিকে মাত্র নবম ম্যাচেই দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া রিহাদ ২০০ বল খেলে ১৩টি চারের সাহায্যে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন। দুজনের অপরাজিত ব্যাটিংয়ে সিলেটের সংগ্রহ আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বগুড়ায় চট্টগ্রামও বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছে। আগের দিন মাহফিজুল ইসলাম রবিনের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৪৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ময়মনসিংহ। জবাবে তৃতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪২৪ রান। দলের পাঁচ ব্যাটসম্যান পঞ্চাশ পেরোলেও কেউ সেঞ্চুরি পাননি। সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেছেন বাংলাদেশের হয়ে ছয়টি টেস্ট খেলা শাহাদাত হোসেন। এ ছাড়া মাহমুদুল হাসান ৭৬, তাসামুল হক ৬৩, সাব্বির শিকদার ৫৪ ও ইরফান শুক্কুর ৫৩ রান করেছেন।
অন্যদিকে সিলেট একাডেমি গ্রাউন্ডে অবশেষে দাপুটে ব্যাটিংয়ের দেখা পেয়েছে বরিশাল। প্রথম তিন ম্যাচেই হারের মুখ দেখা দলটি রংপুরের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে। এতে প্রথম ইনিংসে ৪১ রানের লিড পেয়েছে বরিশাল। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৫ রান তুলে দিন শেষ করেছে রংপুর।
বরিশালের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফজলে রাব্বি। ৩ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা বরিশালের হয়ে দ্বিতীয় সেশনে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। ২০০ বলে ১২৪ রানের ইনিংসটি সাজাতে রাব্বি মেরেছেন ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কা। এই ইনিংস খেলার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। ১৩০ ম্যাচের অভিজ্ঞ রাব্বির এটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১তম সেঞ্চুরি।



