এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে সেটিকে পিছিয়ে পড়া নয়, বরং দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা কাটিয়ে নতুনভাবে পথচলার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। তার পরিকল্পনায়, শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো নয়; পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি, আর্থিক কাঠামো ও নিয়মকানুন-সবকিছু ঠিক করেই ফিরবে বিপিএল।
আজ তামিম বলেন, ‘এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। আমরা একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেব যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারটি আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটি বেশ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’
বিপিএল নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার জায়গাগুলোও আড়াল করেননি বিসিবি সভাপতি। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নিয়ম মানা, বকেয়া পরিশোধ ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনেছেন তিনি। তার মতে, একটি দল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ এসে পড়ে বিসিবির ওপর।
তামিম বলছিলেন, ‘সমস্যা হলো, যদি কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় বা কমপ্লায়েন্স পূরণ না করে, তবে বিসিবিকে সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে তো বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান নয়।’
তাই আপাতত টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে সমস্যাগুলোর সমাধানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। তামিম বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ইচ্ছা এক হাজার শতাংশ রয়েছে। তবে আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে চাই, সেজন্য যদি ৬ বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি তা নেব।’
আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। শেষ মুহূর্তে দল দাঁড় করানোর পুরোনো পদ্ধতি থেকে বের হয়ে এবার বিকল্প প্রস্তুত রাখার লক্ষ্য বোর্ডের। তামিমের কাছে তাই এবারের অনুপস্থিতির চেয়ে বড় বিষয় আগামী বিপিএলের ভিত্তি কতটা শক্ত করা যায়।
বিসিবি সভাপতির স্পষ্ট বার্তা, ‘আমি চাইলে কালকেই পাঁচটি দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি তা করব না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিযোগিতামূলক ফেয়ার ক্রিকেট নিশ্চিত করা এবং বিসিবির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা। এর জন্য যদি আমাকে কোনো সমালোচনাও শুনতে হয়, তবুও আমি রাজি।’



