ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এবার টাইগারদের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে ঘরের মাঠে সমতায় ফেরার লড়াই অস্ট্রেলিয়ার। দুই দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের মঞ্চ ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা, লড়াই শুরু শনিবার। আর ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় কৌতূহল হয়ে উঠেছে এখানকার উইকেট।
ডারউইনে স্পোর্টিং উইকেট পেয়েও বড় ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। তাই দ্বিতীয় টেস্টে উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই চলছে আলোচনা। অচেনা এই ভেন্যুতে এবার পেসারদের সহায়তা করবে এমন একটি উইকেট দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনও জানিয়েছেন, ম্যাকাইয়ে ভালো একটি উইকেটের প্রত্যাশা করছেন তারা, যেখানে গতি ও বাউন্স থাকবে।
গ্রিনের কথায়, এখানকার উইকেটে বাউন্সের পাশাপাশি গতি থাকবে। সাদা বলের ক্রিকেট ও লাল বলের ক্রিকেটের পার্থক্য থাকলেও তার প্রত্যাশা, টেস্টের জন্যও ভালো একটি ক্রিকেট উইকেটই প্রস্তুত করা হবে। ব্যাটার ও বোলার-দুই পক্ষের জন্যই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে ম্যাকাইয়ের ২২ গজ।
উইকেটের চরিত্র নিয়ে স্থানীয় পর্যবেক্ষণও অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের জন্য আশাব্যঞ্জক। একজন অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকের মতে, ডারউইনের ড্রপ-ইন পিচের সঙ্গে ম্যাকাইয়ের উইকেটের পার্থক্য রয়েছে। এখানকার উইকেট স্বাভাবিক ধরনের এবং এর কিউরেটর দীর্ঘ সময় গ্যাবায় কাজ করেছেন। তাই কুইন্সল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী পেস ও বাউন্সনির্ভর উইকেটের ছাপ ম্যাকাইয়েও দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের জন্য এটিকে শুধু পেসারদের উইকেট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করতে পারে, তা প্রথম টেস্টেই প্রমাণ করেছে। ফলে ম্যাকাইয়ে গতি ও বাউন্স বাড়লেও সেটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য অজেয় চ্যালেঞ্জ হওয়ার কথা নয়। বরং নতুন উইকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাকাইয়ের উইকেট নিয়ে রহস্যের বড় কারণ ভেন্যুটির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অল্প অভিজ্ঞতা। ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল এই মাঠের। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি মাত্র দুই বল গড়িয়েই পরিত্যক্ত হয়। পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ম্যাচের হিসাব করলে এরপর গত বছর অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দুটি ওয়ানডে—এই ভেন্যুর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল অভিজ্ঞতা বলতে এতটুকুই।
অর্থাৎ প্রায় ৩৪ বছরে মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে ম্যাকাইয়ে। এবার বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পেতে যাচ্ছে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা। তাই টেস্ট ম্যাচে এখানকার উইকেট ঠিক কী আচরণ করবে, সেটি নিয়ে নিশ্চিত ধারণা পাওয়ার সুযোগ খুবই কম।
লাল বলের ক্রিকেটেও ম্যাকাইয়ের ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। ১৯৯৫ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু হলেও এরপর দীর্ঘ বিরতি ছিল। ২০১৫ সালে শেফিল্ড শিল্ডে আবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ফিরেছিল এই মাঠে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’, নিউজিল্যান্ড ‘এ’, কুইন্সল্যান্ড ও ভিক্টোরিয়ার মতো দল এখানে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের শেষ দিকে ভারত ‘এ’ ও নিউজিল্যান্ড ‘এ’-এর লড়াই হয়েছিল এই মাঠে।



