নিশ্চিত বিশ্বকাপের টিকিট হাতে থাকলেও মাঠে তার কোনো ছাপ নেই—নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আগুনঝরা পারফরম্যান্সেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সুপার সিক্সে টানা চতুর্থ জয়ে স্কটল্যান্ডকে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ব্যাট হাতে অধিনায়ক জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারির বিধ্বংসী ইনিংসের পর বল হাতে মারুফা আক্তারের নিয়ন্ত্রিত আঘাতেই আসে এই দাপুটে জয়।
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। শুরুটা দারুণ করেন ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৪৭ রান তোলে তারা। অষ্টম ওভারে ৬৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে দিলারার বিদায়ে। ২৮ বলে ৩৯ রান করেন দিলারা, জুয়াইরিয়ার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২২ রান। এরপর শারমিন আক্তার সুপ্তা ১০ বলে ১৫ রান করে রানআউটে বিদায় নিলে খানিকটা চাপ আসে দলে।
তিন উইকেট হারানোর পর ইনিংসের গতি বাড়ান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি। টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ফিফটির দেখা পাওয়া জ্যোতি ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৬ রান করেন। মাত্র ৩৩ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। অন্য প্রান্তে সোবহানা ছিলেন আরও ভয়ংকর—২০৪ স্ট্রাইক রেটে ২৩ বলে করেন ৪৭ রান। শেষ দিকের এই ঝড়ো ব্যাটিংয়েই ৫ উইকেটে ১৯১ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে স্কটল্যান্ড। ৩৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। এরপর মারুফা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে আর দাঁড়াতে পারেনি স্কটিশ ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০১ রানেই থামে তাদের ইনিংস।
বল হাতে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দিনের সেরা বোলার ছিলেন মারুফা আক্তার। তাকে ভালোভাবে সহায়তা করেন স্বর্ণা আক্তার, যিনি শিকার করেন ২টি উইকেট।
এই জয়ের ফলে বাছাইপর্বের সুপার সিক্সে চার ম্যাচে চার জয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে জ্যোতির দল। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে জয়ের পর নিশ্চিত হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের টিকিটের পরও যে বাংলাদেশ থামতে রাজি নয়, সেটাই যেন আরও একবার প্রমাণ করল এই ম্যাচ।










Discussion about this post