বিপিএল হচ্ছে না-বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আয়োজন ঘিরে কয়েক দিনের আলোচনার পর বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত। তবে একটি টুর্নামেন্ট বাদ যাওয়ার সঙ্গে যে আর্থিক ক্ষতিও জড়িয়ে আছে, সেটিই এখন বড় হয়ে উঠেছে ক্রিকেটারদের জন্য। বিপিএল না হওয়ায় আয়-রোজগারে যে ঘাটতি তৈরি হবে, সেটি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।
গত তিন দিনের মধ্যে বিসিবির সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে বসেছে কোয়াব। আলোচনায় মূলত বিপিএল না হওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি এবং সেই ক্ষতি কিছুটা হলেও কীভাবে কমানো যায়, সেটিই গুরুত্ব পেয়েছে। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, বিসিবির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
তবে বিপিএলের বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা আপাতত নেই। মিঠুনের বক্তব্যে বরং স্পষ্ট হয়েছে, চলতি বছরের ঘরোয়া ক্রিকেটের যে আয়োজনগুলো আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমেই ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে কিছুটা সুবিধা দেওয়ার পথ খোঁজা হচ্ছে।
মিরপুরে সাংবাদিকদের মিঠুন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিসিবির বোর্ড সভার অনুমোদন প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটারের জন্য বিসিবি কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সেটি শিগগিরই জানানো হতে পারে।
বিপিএলের বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেও জানিয়েছেন কোয়াব সভাপতি। ফলে নজর এখন জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)সহ চলতি বছরের ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোর দিকে। এসব প্রতিযোগিতার কাঠামোর মধ্যে ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে কতটা উপকৃত করা যায়, সেটিই আলোচনার বড় অংশ।
বিপিএল না হওয়ার পেছনে আর্থিক লোকসান এবং টুর্নামেন্টের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন, মোটা অঙ্কের টাকা লোকসানের কারণে এবার বিপিএল আয়োজন করা হচ্ছে না। একই সময়ে টুর্নামেন্টের কাঠামো সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সর্বশেষ বিপিএলের কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিও জানিয়েছিল, প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ শেষ করতে গিয়ে এবার টুর্নামেন্ট আয়োজন না হলেও তাদের আপত্তি নেই।
কিন্তু টুর্নামেন্ট বাতিলের প্রভাব যে শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি বা বিসিবির হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়, ক্রিকেটারদের আর্থিক বাস্তবতাও সামনে এসেছে কোয়াবের আলোচনায়। বিপিএল দেশের অনেক ক্রিকেটারের জন্য মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। ফলে টুর্নামেন্ট না হলে সেই আয়ের জায়গায় যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা পূরণে এখন ঘরোয়া ক্রিকেটকেই ব্যবহার করতে চাইছে বিসিবি।
তবে কোয়াব সভাপতি মনে করেন, বিপিএলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজনের ব্যবস্থা করা বিসিবির দায়িত্বের অংশ। চলতি বছর টুর্নামেন্ট না হলেও আগামী বছর যেন এটি ফিরে আসে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
মিঠুনের কথায়, তারা চলতি বছরও বিপিএল চাইছিলেন। কিন্তু যেহেতু এবার হচ্ছে না, তাই অন্তত আগামী বছর টুর্নামেন্টটি আয়োজন নিশ্চিত করার দাবি থাকবে তাদের। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, যেখানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট আয়োজন বন্ধ রাখতে হয়, সে বিষয়েও ক্রিকেট বোর্ডকে দায়িত্ব নিতে হবে।
বিপিএল তাই এবার শুধু একটি টুর্নামেন্টের অনুপস্থিতির গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ক্রিকেটারদের আয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো এবং দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ। আপাতত সেই ধাক্কা সামাল দিতে বিসিবি ও কোয়াবের আলোচনাই হয়ে উঠেছে ক্রিকেটারদের সবচেয়ে বড় ভরসা।



