ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচকে সামনে রেখে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। মাঠ, উইকেট, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসা ও সংবাদকর্মীদের জন্য বরাদ্দ সুযোগ-সুবিধাসহ সার্বিক আয়োজন ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধি দল।
সোমবার দুপুরে স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন ভেন্যুটির প্রশংসা করেন। তিনি জানান, খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা পর্যালোচনা করেছেন তাঁরা। এবিজি স্পোর্টস সিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবেও সন্তুষ্ট বিসিবি।
সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমরা আসলে প্রথমে ধন্যবাদ দিতে চাই এবিজি স্পোর্টস সিটিকে। এটা অসাধারণ একটি ভেন্যু। আমরা অনেক দিন ধরেই খেলাধুলার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই প্রথম বিসিবি এ ধরনের একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে আয়োজন করছে।’
স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা অসাধারণ। সবাই সহযোগিতাপরায়ণ ও সহায়তাপ্রবণ। উইকেট, আউটফিল্ড, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসা ও লজিস্টিক সুবিধা, সাংবাদিকদের বসার জায়গা, সংবাদ কাভারেজের ব্যবস্থা দেখেছি। বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
বিসিবির প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময় এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান, প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শোয়েব শফিকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দল স্টেডিয়ামের মাঠ ও উইকেটের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, চিকিৎসাকক্ষ, সংবাদকর্মীদের বসার স্থান এবং ম্যাচ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখে।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দল। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ম্যাচ আগে এই মাঠে অনুষ্ঠিত হলেও, বিদেশি কোনো জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে এটিই হবে স্টেডিয়ামটির প্রথম অভিজ্ঞতা। ফলে ম্যাচটি এবিজি স্পোর্টস সিটি ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুই দিনের একটি ম্যাচ হবে। এবিজি স্পোর্টস সিটি ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য এটি অবশ্যই গৌরবের বিষয়।’
প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইমরুল হাসান জানান, মাঠ থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুম, সাংবাদিকদের কক্ষ ও মেডিকেল রুমসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা বিসিবির প্রতিনিধিদের দেখানো হয়েছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের ক্ষেত্রে বিসিবির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে এবিজি স্পোর্টস সিটি।
তিনি বলেন, ‘বিসিবি এ ধরনের আয়োজন করতে অভ্যস্ত, আর আমরা একেবারেই নতুন। তাই তাদের দিকনির্দেশনা নিয়েই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। তাদের কথাবার্তা থেকে আমার মনে হয়েছে, তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।’
এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আরও একটি ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমান স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বিদেশি জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ক্রিকেট আয়োজনের পথ সুগম করতে পারে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন ও বিসিবির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভেন্যুটিকে দেশের ক্রিকেট আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।



