একজন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার অন্যতম নায়ক। আরেকজন ব্যাট হাতে ভারতকে বিপাকে ফেলে তুলেছেন ৪২০ রান। তৃতীয়জন পাকিস্তানের বিপক্ষে বল হাতে করেছেন রীতিমতো তাণ্ডব। আগস্ট মাসে তিন ক্রিকেটারের গল্পই আলাদা, কিন্তু গন্তব্য এক-আইসিসির প্লেয়ার অব দ্য মান্থের মুকুট।
সেই দৌড়ে বাংলাদেশের হয়ে জায়গা করে নিয়েছেন হাসান মাহমুদ।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের ম্যাচটি হয়তো হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩টি। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও নিজের করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার।
তার আগুনঝরা বোলিংয়েই অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সেই জয়ের রেশ কাটার আগেই এবার হাসানের সামনে আরও বড় স্বীকৃতির দরজা খুলে গেছে।
আইসিসির আগস্ট মাসের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন তিনি। তবে মুকুট পেতে হলে হাসানকে পেছনে ফেলতে হবে শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশা ও ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসনকে।
আইসিসিও হাসানের সেই ডারউইন-দাপটকেই সামনে এনেছে। সংস্থাটির বক্তব্য এমন, ‘ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন হাসান। এই জয়ের ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ঐ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, যদিও শেষপর্যন্ত সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। ডারউইন টেস্টে হাসান প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। এর সুবাদে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ২৬ ধাপ এগিয়ে ৩৮তম স্থানে উঠে আসেন তিনি। সিরিজে হাসানের শিকার ছিল মোট ৯ উইকেট, গড় ১৯.৭৭।’
ডারউইনের পর ম্যাকাই টেস্টে অবশ্য উইকেটের দেখা পাননি হাসান। তবু দুই টেস্ট মিলিয়ে ১৯.৭৭ গড়ে ৯ উইকেট তাঁর মনোনয়নের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয়, দুর্দান্ত সেই সিরিজের পর টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ২৬ ধাপ এগিয়ে ৩৮তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
কিন্তু হাসানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দিনুশার গল্পটাও কম চমকপ্রদ নয়। ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টে শ্রীলঙ্কার এই বাঁহাতি ব্যাটার করেছেন ৪২০ রান। গলে প্রথম টেস্টে ১০০ ও ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যান। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩৩।
ফলো-অনে পড়া শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ ড্র করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি টেস্ট ইতিহাসেও নাম লেখান দিনুশা। ফলো-অনে পড়ার পর টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মাত্র তৃতীয় ব্যাটার তিনি।
আর হাসানের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওলি রবিনসন তো আগস্টে বল হাতে ছিলেন আরও ভয়ংকর। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই ম্যাচসেরা হন ইংল্যান্ডের এই পেসার। প্রথম টেস্টে ৮০ রানে ৮ উইকেট। দ্বিতীয় টেস্টে আরও বিধ্বংসী-মাত্র ৩৫ রানে ৮ উইকেট।
দুই টেস্টেই ৮টি করে উইকেট নিয়ে আগস্ট শেষ করেছেন ১৬ উইকেট দিয়ে। তার বোলিং গড় মাত্র ৭.১৮। এমন পারফরম্যান্সে টেস্ট বোলিং র্যাঙ্কিংয়েও ২২ ধাপ লাফ দিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন রবিনসন।



