দুর্দান্ত বোলিংয়ে এক সময় জয়ের সম্ভাবনাই জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। মাত্র ৪৪ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ের সুফল পাওয়া হলো না। হার্শিতা সামারাবিক্রমার দারুণ ব্যাটিংয়ে ভর করে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
গত রাতে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে ৪.৫ ওভারে যোগ করেন ৩১ রান। দিলারা ২৬ এবং জুয়াইরিয়া ১৪ রান করে ফিরলে বাংলাদেশের রান সংগ্রহের গতি কিছুটা কমে যায়। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানাও মাত্র ৪ রান করে আউট হন। ৯.৫ ওভারে ৫২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মুস্তারী ও স্বর্ণা আক্তার মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। সোবহানা করেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ রান। স্বর্ণাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়লেও ১৭তম ওভারে মাত্র এক রানের ব্যবধানে দুজনের বিদায়ে আবারও ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১৯তম ওভার পর্যন্ত মাত্র ৯ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে ফাহিমা খাতুন পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোর কিছুটা বাড়ান। তবে শেষ দুই বলে ফাহিমা ও মারুফা আক্তার আউট হলে ১১৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দেন মারুফা আক্তার। ফুলার লেংথের বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্লিপে ফাহিমা খাতুনের হাতে ক্যাচ দেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। নিজের দ্বিতীয় ওভারেও আঘাত হানেন মারুফা। স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ১৬ বলে ১২ রান করে ফেরেন ইমিশা দুলানিক।
পাওয়ার প্লের মধ্যেই তৃতীয় উইকেট তুলে নেন সুলতানা খাতুন। সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন সানজানা কাভিন্দি। এরপর রিতু মনির বলে ভিশমী গুনারত্নের ক্যাচ এবং ফাহিমা খাতুনের সরাসরি থ্রোতে কাভিশা দিলহারির রানআউটে শ্রীলঙ্কা আরও বিপাকে পড়ে। এক পর্যায়ে ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তখন জয়ের পাল্লা স্পষ্টভাবেই বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়েছিল।
তবে সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন নিলাকশি ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা। দুজনের ৩৮ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। মারুফা আক্তার ১৮ রান করা নিলাকশিকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙলেও হার্শিতা তখনও অবিচল ছিলেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪ উইকেটের জয়ে শ্রীলঙ্কা নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে হার্শিতার হাতে।
এই হারের ফলে টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা পরাজয়ের সংখ্যা দাঁড়াল সাতটিতে। জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে এখন সমীকরণ একেবারেই পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অবশ্যই হারাতে হবে। সেই ম্যাচে জয় পেলেও সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে শক্তিশালী ভারত।



