ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাইয়ে যেন একেবারেই ভিন্ন চেহারার বাংলাদেশকে দেখা গেল। প্রথম টেস্টের দাপুটে পারফরম্যান্সের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না দ্বিতীয় ম্যাচে। ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৭৫০ বলেই শেষ হয়েছে ম্যাচ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে দুই দল।
ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্দশা শুরু প্রথম ইনিংস থেকেই। অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে অস্ট্রেলিয়া খুব বড় সংগ্রহও করতে পারেনি। ক্যামেরন গ্রিনের ৬৭ এবং নাথান লায়নের অপরাজিত ৩২ রানের সুবাদে ২১০ রান করে অলআউট হয় স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন সাত উইকেট। ৪৮ রানে সাত উইকেট নিয়ে বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের পর বাংলাদেশের সামনে ছিল ১৪৬ রানের ঘাটতি। কিন্তু সেই ঘাটতি পেরোনোর বদলে দ্বিতীয় ইনিংসেই আবারও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। ফলে মাত্র ২১০ রান করেই ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ২১০ বা তার কম রান করে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের ঘটনা মাত্র চারটি। ১৮৮৮ সালে ১৭২ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস ও ২১ রানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ১৯৩২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫৩ রান করেও ইনিংস ও ৭২ রানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৯৪৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করেও ইনিংস ও ১০৩ রানে জিতেছিল তারা। দীর্ঘ ৮০ বছর পর এবার আবারও সেই বিরল তালিকায় নাম লেখাল অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের পতনের শুরু মিচেল স্টার্কের হাত ধরে। মাত্র পাঁচ রানের মধ্যে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর তানজিদ হাসান তামিমকে প্যাট কামিন্স ফেরালে বিপদ আরও বাড়ে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। স্টার্ককে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। কিন্তু সেই লড়াইও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
দ্বিতীয় সেশনে শুরু হয় বড় ধস। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে শান্তর ২৭ রানের জুটি ভাঙেন নাথান লায়ন। এরপর লিটন দাসকে ফেরান স্টার্ক। কামিন্সের বলে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ ফিরে গেলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৮২ রানে আট উইকেট। পরে তাইজুল ইসলামকে বোল্ড করে ম্যাচে নিজের দশম উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।
চা-বিরতিতে ৮ উইকেটে ৯৫ রানে থাকা বাংলাদেশ আর মাত্র তিন বল টিকতে পারে। বিরতির পর প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদকে ফিরিয়ে দেন লায়ন। এরপর শরিফুল ইসলামও ২ বল খেলে কোনো রান না করে আউট হন। ৯৫ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।
এই হারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামনে আরও একটি বিব্রতকর পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে। দুই ইনিংসেই শতরানের আগে অলআউট হয়েছে দলটি। টেস্টে ২১ বছর পর এমন ঘটনা দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। সর্বশেষ ২০০৫ সালে হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫৯ ও ৯৯ রানে অলআউট হয়েছিল।
ম্যাকাইয়ের ম্যাচটি একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট। পুরো ম্যাচে খেলা হয়েছে মাত্র ৭৫০ বল। ১৯৩২ সালে মেলবোর্নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ শেষ হয়েছিল ৬৫৬ বলে। টেস্ট ইতিহাসে ৭৫০ বলের এই ম্যাচটি এখন চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম।



