ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। ব্যাটারদের বেশির ভাগই ছন্দে নেই, মিডল অর্ডারেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স মিলছে না। সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ে ভঙ্গুর দশা বাংলাদেশের। সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচে ২০০ রানও করতে পারেনি দল। একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয়েছে টাইগারদের। এক বছর পরই ওয়ানডে বিশ্বকাপ, তাই ব্যাটিংয়ের এই দুরবস্থা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ।
তবে ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের এমন পরিস্থিতিতে মিডল অর্ডারের চেয়ে টপ অর্ডার নিয়েই বেশি চিন্তিত দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। বসুন্ধরায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
বাশার বলেন, ‘লিটন (দাস) তো এখন ওপেন করছে না। চারে ব্যাট করে (ওয়ানডেতে)। পাঁচে তাওহীদ হৃদয়। মাঝে লিটন-হৃদয় পাঁচে-ছয়ে খেলেছে। আমরা মোসাদ্দেককে (হোসেন সৈকত) আনার পর প্রথম সিরিজেই সিরিজসেরা হয়েছে। এরপর একটু অফ ফর্ম যাচ্ছে। আমরা ইয়াসির (আলী) রাব্বিকে টি-টোয়েন্টিতে ফিরিয়েছি। ওয়ানডেতে সামনে আনতেও পারি।’
মিডল অর্ডারে নুরুল হাসান সোহানের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচক। সুযোগ পেয়েও সোহান প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাশার বলেন, ‘সোহানকে সুযোগ দিয়েছি। সোহান সুযোগের ভালো ব্যবহার করেছে তা বলতে পারছি না। ভালো অভিজ্ঞতা আছে। তবে এমনটা হতেই পারে। অনেক সময় সুযোগ না পেলে পরে পেলে অনেক কিছু করতে গেলে এক্সিকিউট ভালো না-ও হতে পারে, সেখানেও একটা কারণ থাকতে পারে।’
মিডল অর্ডারের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না বাশার। পারভেজ হোসেন ইমনের উদাহরণ টেনে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মূল সমস্যা টপ অর্ডারে। শুরুতেই দুই-তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেললে পরের ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি হয়, যা বড় সংগ্রহ গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বাশার আরও বলেন, ‘(পারভেজ হোসেন) ইমনকে আমরা এনেছি, মাঝে বাইরে চলে গিয়েছিল। ইমন কিন্তু এখন চারেই ব্যাট করে টি-টোয়েন্টিতে। আমার মনে হয় না এটা অত বড় সমস্যা। আমাদের আসল সমস্যা হচ্ছে টপ অর্ডারে। কারণ শুরুতেই যদি আপনি ২-৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেন, চাপে থাকবেন। যে ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো করেছি, ওপেনিং জুটি ভালো করলে কিন্তু ২৭০-৮০ রান করেছি আমরা। টপ অর্ডার যেদিন রান করেছে, সেদিন কিন্তু আমরা ভালো করেছি। যদি পরিসংখ্যান দেখেন।’
প্রধান নির্বাচকের বক্তব্যে স্পষ্ট, মিডল অর্ডারের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেয়ে টপ অর্ডারের ধারাবাহিকতা ফেরানোই এখন বেশি জরুরি। ওপেনিং জুটি ভালো শুরু এনে দিতে পারলে পরের ব্যাটারদের জন্য বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু শুরুতেই উইকেট হারানোর প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা দূর করা কঠিন হবে।



