এশিয়ান গেমসের পর্দা উঠছে এ মাসেই। আর এবারের আসরে পুরুষ ক্রিকেটের লড়াই ঘিরে উত্তাপটা যেন একটু বেশিই। ভারত ও পাকিস্তান যখন শক্তিশালী জাতীয় দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন বাংলাদেশের সামনেও তৈরি হয়েছে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় মঞ্চ। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল এইচপি দল পাঠানোর। শেষ পর্যন্ত সেই ভাবনা থেকে সরে এসে মূল জাতীয় দলকেই এশিয়ান গেমসে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ।
পরিকল্পনা বদলের পেছনে বড় কারণ প্রতিপক্ষদের দল নির্বাচন। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টপ-এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এইচপি দলের হয়ে সাব্বির রহমান ও রুবেল হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা ভালো পারফর্ম করলেও, শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের জায়গা হয়নি তাদের। ভারত-পাকিস্তানের মতো দল যখন পূর্ণশক্তি নিয়ে নামছে, তখন বাংলাদেশেরও মূল দল পাঠানোর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়েছে।
জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছে এটি শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘প্রথমে এইচপি দল যাওয়ার কথা ছিল। যখন দেখলাম অন্যান্য দেশ পুরো জাতীয় দল পাঠাচ্ছে, সেখানে আমরা কেন পাঠাব না? এটা একটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে।’
টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। ফলে শুরুতেই বাছাইপর্বের ধাক্কা সামলাতে হবে না দলকে। সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এবার আরও দূর যেতে চায় বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে অতীতে স্বর্ণপদক জেতা বাংলাদেশের সামনে এবারও ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে টি-টোয়েন্টির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া।
দীর্ঘদিন ধরে টি-টোয়েন্টি খেলছে না বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে দলের ব্যস্ততা ছিল মূলত টেস্ট ও ওয়ানডে ঘিরে। ফলে হঠাৎ করেই সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ফিরে নিজেদের পুরোনো ছন্দ খুঁজে পাওয়াটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
সালাউদ্দিন অবশ্য সুযোগটাকে দেখছেন ইতিবাচকভাবেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফাইনালে যাওয়ার সহজ সুযোগ আছে যদি ভালো খেলি। গত কয়েক সিরিজ ধরে টি-টোয়েন্টি খেলছি না। যত তাড়াতাড়ি পারি মানিয়ে নিতে পারে। ৩-৪ মাস আগে যে ছন্দে ছিলাম এটাতে ফিরে আসার চ্যালেঞ্জ আছে। গত কয়েক মাস শুধু টেস্ট-ওয়ানডেই খেলেছি। আশা করি টি-টোয়েন্টিতেও আগের ছন্দে ফিরে আসব।’
বাংলাদেশের জন্য তাই এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট অভিযানটা হবে একই সঙ্গে সুযোগ ও পরীক্ষা। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি আছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার চাপ। ভারত-পাকিস্তানের মতো দলগুলো যখন মূল শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে, তখন বাংলাদেশের জন্যও নিজেদের ক্রিকেটের মান দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে বড় মঞ্চে নামার আগে সালাউদ্দিনের কাছে ফলাফলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ দলের পারফরম্যান্স। সুযোগ-সুবিধা, প্রস্তুতির ধরন কিংবা প্রতিপক্ষ-কোনোটাকেই অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না তিনি। তার চোখে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি। ভালো খেলাই মুখ্য। চ্যালেঞ্জ থাকবেই। অন্যান্য জায়গায় অনেক সুবিধা পেয়েও তো অনেক সময় ভালো ফলাফল করতে পারি না। তাই সুযোগ-সুবিধা আমার কাছে মুখ্য বিষয় না। আমার কাছে মুখ্য বিষয় হলো- আমরা যেন ভালো খেলি।’
এই এশিয়ান গেমসে তাই বাংলাদেশের গল্পটা শুধু পদকের নয়। দীর্ঘ বিরতির পর টি-টোয়েন্টিতে ফেরা, মূল দল নিয়ে বড় প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ নেওয়া এবং অতীতের স্বর্ণপদকের স্মৃতি সামনে রেখে নতুন করে ফাইনালের স্বপ্ন দেখা-সব মিলিয়ে এবার ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিযানটা হতে যাচ্ছে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাওয়ারও পরীক্ষা।
শুরুটা হবে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এরপর প্রতিটি ম্যাচই ঠিক করবে, পুরোনো সাফল্যের স্মৃতি এবার নতুন কোনো গল্পের জন্ম দিতে পারে কি না।



