নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সিরিজটি সামনে রেখে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে সতর্ক প্রোটিয়া টেস্ট দলের অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বোলিং বিভাগের প্রশংসা করেছেন তিনি।
চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ১-১ সমতায় শেষ হওয়া সিরিজে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসেন শরিফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সেই সিরিজে নজর ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বাভুমারও। টাইমস লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচ দেখেছি। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের সিরিজও দেখেছি, যেখানে অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্টে হেরে গেছে। তবে আমি আশা করছি, অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়াবে এবং নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়েও সতর্ক প্রোটিয়া অধিনায়ক। বাভুমা বলেন, ‘বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণও বেশ ভালো। তারা অবশ্যই আমাদের কঠিন পরীক্ষা নেবে। আমি যখন খেলি না, তখন খুব বেশি ক্রিকেট দেখি না। সুযোগ পেলেই ম্যাচগুলোর খোঁজ নিই, তবে যতটা সম্ভব নিজেকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিশ্লেষক দলের কাছ থেকে প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতার তথ্য নিই।’
এদিকে গত জুনে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঐতিহাসিক সেই সাফল্যের পর নতুন চক্রে ঘরের মাঠে প্রথম সিরিজেই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে প্রোটিয়ারা। আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানের কিংসমিডে শুরু হবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দলের ওপর প্রত্যাশার চাপ বেড়েছে বলেও স্বীকার করেছেন বাভুমা। তিনি বলেন, ‘একভাবে বললে, এখন আমাদের পিঠে লক্ষ্যচিহ্ন আছে। যে দলই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে, তারা বিশ্বের এক নম্বর দল হিসেবে আমাদের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করতে চাইবে। যদি কোনো চাপ থেকেই থাকে, সেটা হলো নিজেদের মান ধরে রাখা এবং সেই চাপ সামলে ওঠা।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। এরপর ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়ানে হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
টেস্ট সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে বাংলাদেশ।



