অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে সেই স্বপ্নের পথ কঠিন করে তুলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যদিও ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বাকি পাঁচটি টেস্টে জয় পেলে ফাইনালে খেলার লড়াইয়ে টিকে থাকার সুযোগ রয়েছে টাইগারদের। বর্তমানে বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও পাঁচটি দল রয়েছে ফাইনালের দৌড়ে।
শনিবার দুটি টেস্টের ফলের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এসেছে বড় পরিবর্তন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের কাছে সিরিজ হেরে শীর্ষস্থান হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের জায়গা দখল করেছে নিউজিল্যান্ড। ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে কিউইরা। ৭১.৪৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ৬৯.২৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর বাংলাদেশের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭.৬২ শতাংশে। পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে দলটি। ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ভারত। চলমান ২০২৫-২৭ চক্রে প্রতিটি জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট, ড্রয়ের জন্য ৪ পয়েন্ট এবং টাই হলে ৬ পয়েন্ট দেওয়া হচ্ছে। তবে পয়েন্ট তালিকার অবস্থান নির্ধারিত হচ্ছে পয়েন্ট পার্সেন্টেজের ভিত্তিতে। চক্র শেষে শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে।
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাকি পাঁচটি টেস্টে অপরাজিত থেকে সবকটিতে জয় তুলে নেওয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্ট এখনো বাকি রয়েছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি এবং ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে টাইগাররা। বাকি পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে জিততে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আর একটি ম্যাচেও হারলে পয়েন্ট কমে ৬১.১১ শতাংশে নেমে আসবে। তখন ফাইনালের সেরা দুইয়ে জায়গা করে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
ফাইনালের দৌড়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাদের হাতে এখনো ১০টি টেস্ট বাকি। ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে দুটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে তারা। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চারটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তানের মাটিতে দুটি টেস্ট রয়েছে কিউইদের। বাকি ১০ ম্যাচের সাতটিতে জিততে পারলে তাদের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ দাঁড়াবে ৭০.৮৩ শতাংশে। এই ফল নিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল হবে মিচেল স্যান্টনারের দলের। তবে ছয়টি জয় পেলে পয়েন্ট হবে ৬৪.৬ শতাংশ, যা ফাইনালে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে ফাইনালের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের হাতে রয়েছে সাতটি টেস্ট। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিনটি এবং শ্রীলঙ্কার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে টেম্বা বাভুমার দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সবকটি ম্যাচ জিতলে তাদের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ ৭১.৪২ শতাংশে পৌঁছাবে। বাকি সাত ম্যাচের যেকোনো পাঁচটিতে জয় পেলেও একই পয়েন্ট পার্সেন্টেজ অর্জনের সুযোগ রয়েছে তাদের। এমনকি চার জয় ও এক ড্র নিয়েও ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তৃতীয় স্থানে নেমে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এখনো যথেষ্ট ভালো। তাদের বাকি নয়টি টেস্টের চারটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে এবং পাঁচটি ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে। এর মধ্যে ছয়টি ম্যাচ জিততে পারলে তাদের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ দাঁড়াবে ৬৭.২ শতাংশে। ফলে শীর্ষ দুইয়ে ফেরার সুযোগ থাকবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে। তবে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে কঠিন দুটি সিরিজে ভালো ফল করাই হবে তাদের মূল চ্যালেঞ্জ।
চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতের সামনে রয়েছে সাতটি টেস্ট। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুটি এবং নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচটি টেস্ট খেলবে তারা। সবকটি ম্যাচ জিতলে ভারতের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ বেড়ে দাঁড়াবে ৭০.৩৭ শতাংশে। ছয়টি ম্যাচ জিতলেও পয়েন্ট হবে ৬৫ শতাংশ। তবে পাঁচ জয় ও এক ড্র নিয়ে চক্র শেষ করলে ফাইনালে ওঠার জন্য অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ভারতকে।
তুলনামূলক পিছিয়ে থাকলেও ফাইনালের আশা ছাড়ছে না শ্রীলঙ্কা। এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলে তাদের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ ৩৩.৩৩। বাকি ছয়টি টেস্টের দুটি পাকিস্তানের মাটিতে, দুটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এবং দুটি নিজেদের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে তারা। সবকটি ম্যাচ জিততে পারলে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট পার্সেন্টেজ দাঁড়াবে ৬৬.৬৭ শতাংশে। তবে ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলাফলও তাদের অনুকূলে আসতে হবে।



