সিলেটের উইকেট মিরপুরের মতো স্পিনসহায়ক না হলেও বল হাতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে দ্বিতীয় ইনিংসে দুই উইকেট হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও আজ চতুর্থ দিনের প্রথম সেশন শেষে ম্যাচে ৯৮ রানের লিড ধরে রেখেছে সফরকারীরা।
তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৫৬ রান। ফলে ৩০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ক্যারিবীয়রা।
দিনের খেলা শুরু হয়েছিল বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রাখেন দুই ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা। দুজনের ব্যাটে দ্রুত এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শটে রান তুললেও শুরুতে উইকেটের দেখা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ।
অবশেষে ৮৫ রানের মাথায় ওপেনিং জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৭০ বলে ৩৬ রান করা জশুয়া ডা সিলভাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন ব্রেন্ডন কিং। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। তবে ফিফটির কিছুক্ষণ পরই তাকে থামান মেহেদী হাসান মিরাজ। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। ৮৪ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ ওভারে যোগ করেছে ১২১ রান। ওভারপ্রতি চার রানের বেশি গতিতে রান তুলেছে সফরকারীরা। তবে রান তোলার পাশাপাশি দুই গুরুত্বপূর্ণ ওপেনারের উইকেট হারানোয় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সিলেটের উইকেটে স্পিনারদের এমন সাফল্য পরবর্তী সেশনের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে স্বাগতিকদের।
প্রথম সেশন শেষে ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন কাভেম হজ ও কেভিন উইকহ্যাম। হজ ৩০ রান করে ব্যাট করছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ ও তাইজুল একটি করে উইকেট পেয়েছেন।
লাঞ্চ বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১২৮ রান। প্রথম ইনিংসের ৩০ রানের ঘাটতি পেরিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৯৮ রানে। ম্যাচের বাকি সময়ে বাংলাদেশের স্পিনাররা কতটা চাপ তৈরি করতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



