বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের জন্য আগস্টটা ছিল দারুণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বল হাতে ৯ উইকেট নিয়ে আইসিসির মাসসেরা হওয়ার জোর দাবিদার হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পারফরম্যান্সও যথেষ্ট হলো না। হাসানকে পেছনে ফেলে আগস্ট মাসের পুরুষ ক্রিকেটার অব দ্য মান্থ নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ব্যাটিং অলরাউন্ডার সোনাল দিনুশা।
মাসসেরার লড়াইয়ে হাসানের সঙ্গে ছিলেন ইংল্যান্ডের পেসার ওলি রবিনসনও। আগস্টে দুই টেস্টে রবিনসন নিয়েছিলেন ১৬ উইকেট। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু দুজনের বোলিং নৈপুণ্যকে ছাপিয়ে গেছে ভারতের বিপক্ষে দিনুশার ব্যাটিং-ঝড়।
দুই টেস্টের সিরিজে চার ইনিংসে ব্যাট করে দিনুশা তিনবারই পৌঁছেছেন তিন অঙ্কে। সেঞ্চুরি না পাওয়া একমাত্র ইনিংসটিতেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৮৪ রান। সব মিলিয়ে ৪২০ রান নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ১৪০।
শ্রীলঙ্কার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে হারের পর সিরিজ হার এড়ানোর লড়াইয়ে কলম্বোয় ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান দিনুশা। দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৩ ও অপরাজিত ১৩৩ রান। তাঁর জোড়া সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ভারতকে রুখে দিয়ে টেস্টটি ড্র করে শ্রীলঙ্কা।
এর আগে প্রথম টেস্টেও আলো ছড়িয়েছিলেন দিনুশা। প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ৮৪। অর্থাৎ দুই টেস্টের চার ইনিংসে তাঁর রান ছিল ১০০, ৮৪, ১০৩ ও অপরাজিত ১৩৩ একটি ধারাবাহিকতার গল্প, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাসসেরার পুরস্কার এনে দিয়েছে।
দিনুশার এই স্বীকৃতির গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স এখনো খুব বেশি নয়। গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে অভিষেক হয়েছিল তার। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেছিলেন এই শ্রীলঙ্কান। এরপর মাত্র পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারেই নিজের নাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আলোচনায় নিয়ে এসেছেন।
প্রথমবার আইসিসির মাসসেরা হওয়ার পর দিনুশা বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন স্বীকৃতি পাওয়া তার কাছে বিশেষ কিছু। ভারতের বিপক্ষে সিরিজটিকেও নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনটি সেঞ্চুরি করাকে তার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে, আর কলম্বো ও গলে নিজেদের দর্শকদের সামনে সেই সেঞ্চুরিগুলো করতে পারায় আনন্দটা আরও বেড়েছে।
সিরিজের ফল অবশ্য শ্রীলঙ্কার পক্ষে যায়নি। তবে দ্বিতীয় টেস্টে দলের ঘুরে দাঁড়ানোয় গর্বিত দিনুশা। তার ব্যাটে শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই আসেনি, সিরিজে শ্রীলঙ্কার একটি টেস্ট বাঁচাতেও বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর ইনিংস।
অন্যদিকে হাসানের ৯ উইকেট কিংবা রবিনসনের ১৬ উইকেটও মাসসেরার দৌড়ে যথেষ্ট ছিল না। আগস্টের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন দিনুশাই-বল হাতে নয়, ব্যাট হাতে তিন সেঞ্চুরি আর ৪২০ রানের এক দুর্দান্ত মাসের সুবাদে।



