বাংলাদেশ জাতীয় দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের চোট নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় লিটনের চোটের প্রকৃত অবস্থা ধরা না পড়ায় তাকে জিম্বাবুয়ে সফরের দলে রাখা হয়েছিল। তবে পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে চোট পাওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও খেলতে পারেননি লিটন। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরের দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে আসেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে দলে নেওয়া হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার বলেন, শুরুতে চিকিৎসকদের কাছে এটি কেবল কাফ মাসলের ইনজুরি বলেই মনে হয়েছিল। পরে আরও একটি স্ক্যানে গ্রেড-১ টিয়ার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এমন চোট থেকে সেরে উঠতে সাধারণত তিন সপ্তাহের বেশি সময় লাগে না এবং সেই হিসাব অনুযায়ী জুনের মধ্যেই তার পুনর্বাসন শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরের গুরুত্ব বিবেচনায় টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালেই লিটনকে রিহ্যাবের জন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও ব্যথা না কমায় একাধিকবার স্ক্যান করা হলেও নতুন কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। পরে সিঙ্গাপুরে করানো পরীক্ষায় টিয়ার না মিললেও ফোলা বা সোয়েলিং শনাক্ত হয়। বর্তমানে লিটনের অবস্থা উন্নতির দিকে থাকলেও তাকে পুনর্বাসনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার খেলা হচ্ছে না এবং দ্বিতীয় টেস্টেও অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
লিটনের চোটের বিষয়ে মেডিকেল টিমকে দায়ী করতে নারাজ প্রধান নির্বাচক। তার ভাষ্য, চিকিৎসকরা স্ক্যান রিপোর্টে যা পেয়েছেন, তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেহেতু প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোতে অতিরিক্ত কোনো জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই মেডিকেল টিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ নেই।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের টেস্ট দলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন জায়গা হারিয়েছেন, বিপরীতে দলে ফিরেছেন জাকের আলী অনিক। লিটনের অনুপস্থিতিতে অঙ্কনই উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পাবেন বলে ধারণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার। ফলে ডারউইন টেস্টে উইকেটের পেছনে জাকেরকেই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
জাকেরকে দলে ফেরানোর কারণ ব্যাখ্যা করে হাবিবুল বাশার বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স খারাপ ছিল না। তবে একসময় ফর্ম হারানোয় তাকে দল থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল, যাতে ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য দলে খেলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে পারেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল, ‘এ’ দল এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো পারফরম্যান্স করে তিনি আবারও জাতীয় দলে ফেরার দাবি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
অঙ্কনের বাদ পড়ার বিষয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, তাকে মূলত টেস্ট দলের ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে জাকের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির দিক থেকে এগিয়ে থাকায় এবার তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে অঙ্কনও সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে বড় স্কোয়াড তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধান নির্বাচক।









Discussion about this post