বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বোর্ডরুমের লড়াই যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ সেই দ্বন্দ্বের রেশ পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দোরগোড়ায়। সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরে প্রকাশিত একটি চিঠি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই চিঠিতে তিনি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও বুলবুল নিজেই পুরো বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। ফলে অভিযোগ ও অস্বীকারের এই দ্বন্দ্বে নতুন প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ক্রিকেট প্রশাসন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বাতিল করার পরও তিনি নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করে আসছেন। সেই অবস্থান থেকেই আইসিসিতে পাঠানো কথিত চিঠিতে বর্তমান বিসিবির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান বোর্ডকে স্বীকৃতি না দিয়ে আইসিসির সব ধরনের আর্থিক সহায়তা স্থগিত রাখা হোক এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের বিষয়ে আইসিসি সরাসরি হস্তক্ষেপ করুক।
চিঠির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো, বর্তমান বোর্ডকে আইসিসি স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবির জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখার আহ্বান। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করার অনুরোধও করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বিসিবির সদস্যপদ স্থগিত এবং বাংলাদেশকে আইসিসির টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বিবেচনার কথাও সেখানে উল্লেখ ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
যদি এমন কোনো অনুরোধ সত্যিই করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি শুধু প্রশাসনিক বিরোধের বিষয় নয়; বরং দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। আইসিসির আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট এবং অবকাঠামোগত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সদস্যপদ নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সূচি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ক্রিকেটের সামগ্রিক অগ্রযাত্রা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো অনুরোধ তিনি কখনোই আইসিসির কাছে করেননি। তার দাবি, যে খবর ছড়ানো হয়েছে, সেটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তার এমন কোনো প্রশাসনিক অবস্থানও নেই, যার কারণে আইসিসি তার ব্যক্তিগত কোনো অনুরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
বুলবুলের ভাষ্য অনুযায়ী, বিসিবির দায়িত্বে থাকাকালেও তাকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। তার অভিযোগ, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। বর্তমান ঘটনাকেও তিনি সেই একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত আইসিসি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। বিসিবির বর্তমান নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও অভিযোগের সত্যতা কিংবা কথিত চিঠির আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়।
এই পুরো ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এখনও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি বোর্ড পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন বারবার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। আর এই বিতর্কের শেষ কোথায়, সেটি নির্ভর করবে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন হলে আইসিসির ভবিষ্যৎ অবস্থানের ওপর।









Discussion about this post