আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে শুধু গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়ই পায়নি টাইগ্রেসরা, গড়েছে নতুন রেকর্ডও। টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে এসে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো একটি বিশ্বকাপ আসরে দুই ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কোনো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই এক আসরে একটির বেশি জয় পায়নি দলটি।
গতকাল সাউদাম্পটনে ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকে পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়া কঠিন হয়ে উঠলেও শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝলমলে ব্যাটিং দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। ২২ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে বাংলাদেশ নির্ধারিত ওভারে তোলে ১২৩ রান।
লক্ষ্য বড় না হলেও পাকিস্তান শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল। তবে মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সানজিদা আক্তার মেঘলা ও নাহিদা আক্তার তিনটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেন। শেষ পর্যন্ত ১০০ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস, আর ২৩ রানের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অনেক দিন পর আমি ভালো বল করলাম। এটা আমার দলের জন্য। আসলে আমি নিজের শক্তি সম্পর্কে জানি। টিমমেটরাও জানি। আগের কিছু ম্যাচে ভালো বল করতে না পারলেও কোচিং স্টাফসহ সবাই আমার উপর বিশ্বাস রেখেছে। আমি বোলিংয়ের সময় পরিস্থিতি বুঝে বল করার চেষ্টা করেছি। আমার অধিনায়ক আমাকে বলেছে, তুমি হচ্ছো সেরা বোলার, তুমি যেকোনো কিছু করতে পারো। এটাই আমার শক্তি।’
বাংলাদেশের সংগ্রহ নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাহিদা বলেন, ‘উইকেট ব্যাটিং বোলিং দুটির জন্যই ভালো ছিল। তারাও ভালো বল করেছে। আমাদের অনেকে রান পায়নি। ১০-১৫ রান কম করেছিলাম। তবুও আমাদের বিশ্বাস ছিল এই রান নিয়েই জেতা সম্ভব। দিনদিন আমাদের দল অনেক উন্নতি করছে। ম্যাচও জিতছে। এক ম্যাচ ধরে ধরে প্ল্যান করছি। বিশ্বাস আছে, ভালো ক্রিকেট খেললে এখানে যেকোনো কিছু করতে পারি। একই প্রসেস ধরে একই রুটিনে পরের ম্যাচগুলোও খেলতে চাইব।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে দল কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি। নাহিদা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ম্যাচ জিততে পেরেছি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ব্যাটিং বা বোলিং দুই বিভাগেই ভালো করতে পারিনি। পরে আমাদের ভালো গেট টুগেদার হয়, আমরা বসে কথা বলি। যে আমাদের এখান থেকে কী কী উন্নতি করে পরের ম্যাচে আগাতে পারি। এটাই প্ল্যান ছিল। আলহামদুলিল্লাহ ম্যাচ জিততে পেরেছি। আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরের ম্যাচে যেতে চাই।’
মাত্র ১২৩ রান রক্ষা করার আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে এসেছে, সেই প্রশ্নের জবাবে নাহিদা বলেন, ‘সবাই আমাদের বোলিংয়ে বিশ্বাস রেখেছে। এটা আমাদের শক্তি। মারুফা অনেক ভালো বল করেছে। প্রথম ওভারেই ভালো করেছে। ফলে আমরা মোমেন্টাম পেয়েছি। পাওয়ারপ্লে শেষে অধিনায়ক বলেছে আমরা যেকোনো কিছু করতে পারি, সবাই এটাই বিশ্বাস করেছি।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় যে সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয়, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন এই স্পিনার। তাঁর ভাষায়, ‘যখনই পাকিস্তানের সাথে খেলি বাড়তি অনুভূতি কাজ করে। মাঠে আসলেই আমরা একে অপরের শত্রু, আমরা কেউ কারও বন্ধু না। এটা কেবল আমাদের ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশের সব মানুষেরই এটা কাজ করে যেন আমরা ভালো ক্রিকেটটা খেলতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ আজকে ভালো ক্রিকেট খেলতে পেরেছি।’
তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে এখন পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। টাইগ্রেসদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ২৫ জুন, যখন শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।










Discussion about this post