শুরুর ধাক্কায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছে। সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্যাট হাতে সংগ্রাম করেও লড়াই করার মতো পুঁজি গড়ে টাইগ্রেসরা। পরে নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তানকে ১০০ রানে আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
টসে জিতে আজ ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩ রানের মধ্যেই ফিরে যান দিলারা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোরবোর্ডে ছিল মাত্র ২৩ রান।
এমন পরিস্থিতিতে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারী। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটি কিছুটা স্থিতি এনে দেয়।
মোস্তারী ২২ রান করে বিদায় নিলেও জ্যোতি এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তবে বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান আসে স্বর্ণা আক্তারের ব্যাট থেকে। সাত নম্বরে নেমে তিনি মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে দ্রুত রান যোগ করে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান আত্মবিশ্বাসী সূচনাই করেছিল। গুল ফিরোজা ও মুনীবা আলির উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৪১ রান আসে। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদা আক্তার। তিনি পরপর দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ভিত নড়িয়ে দেন। এরপর সানজিদা আক্তার মেঘলা দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে আরও এগিয়ে দেন।
মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশি স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং পাকিস্তানের রান তোলার গতি পুরোপুরি থামিয়ে দেয়। প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় চাপ বাড়তে থাকে পাকিস্তানের ব্যাটারদের ওপর। রাবেয়া খানের উইকেট-মেইডেন ওভার সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪০ রান। কিন্তু অধিনায়ক ফাতিমা সানার উইকেট হারানোর পর জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায় তাদের। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলা তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি করে উইকেট নেন রাবেয়া খান ও রিতু মনি। ব্যাট হাতে স্বর্ণা আক্তারের ঝড়ো ইনিংস এবং বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে স্মরণীয় জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এক আসরে একাধিক ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।









Discussion about this post